শিরোনাম
বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পল্লব গ্রেফ/তার আনন্দভ্রমণে মৃত্যু: টাঙ্গুয়ার হাওরে ৪ মাসে ৫ প্রাণহানি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন স্লিপার বাস বন্ধ ও ইটিসি সিস্টেম চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হবিগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শন: চিকিৎসক বরখাস্তের নির্দেশ স্থানীয় নির্বাচন: জনপ্রিয়তা-গ্রহণযোগ্যতা-ত্যাগে জোর, বিদ্রোহীদের নিয়ে সতর্ক বিএনপি সিলেটে যে অপরাধে ধরা পড়লেন ২৬ জন হবিগঞ্জে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হ/ত্যা সিলেট সীমান্তে ২৯ লক্ষ টাকার চো/রাচালানী মালামাল জব্দ ৫৩৮ মরদেহ উদ্ধার, আরও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে নেপাল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত: বিনা খরচে যাবে ১০ হাজার কর্মী

https://www.emjanews.com/

16431

sports

প্রকাশিত

১৬ জুন ২০২৬ ০০:৩৪

খেলাধুলা

কেপ ভার্দের গোল রক্ষক ভোজিনিয়ার প্রাচীরে থেমে গেল স্পেন

কখনো ড্র-ও জয়ের মতো উদ্‌যাপিত হয়

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ ০০:৩৪

গোল রক্ষক ভোজিনিয়ার দুর্দান্ত সেইভ (ছবি: সংগৃহীত)

শেষ বাঁশি বাজতেই দৃশ্যটা যেন কোনো উপন্যাসের শেষ অধ্যায়। একদিকে স্পেনের ফুটবলারদের মুখে অবিশ্বাস আর হতাশার ছায়া, অন্যদিকে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের চোখে আনন্দের অশ্রু। স্কোরবোর্ডে লেখা মাত্র দুটি শূন্য : ০-০। অথচ এই দুই শূন্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক মহাকাব্যের বিস্তার।

ফুটবল কখনো কখনো পরিসংখ্যানকে উপহাস করে। শক্তির হিসাব, র‍্যাঙ্কিংয়ের অঙ্ক, তারকাদের ঝলক; সবকিছুকে এক মুহূর্তে ম্লান করে দেয় একদল স্বপ্নবাজ মানুষের সাহস। কেপ ভার্দে সেই সাহসেরই আরেক নাম হয়ে উঠল আজ।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তারা এসেছিল নবাগত হিসেবে। আর তাদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। যে দলকে ঘিরে ছিল শিরোপার স্বপ্ন, ছিল কোটি সমর্থকের প্রত্যাশা। কিন্তু মাঠের সবুজ ঘাসে ইতিহাস লেখা হয় না নামের জৌলুসে; লেখা হয় ঘাম, সাহস আর বিশ্বাসের কালি দিয়ে।

স্পেন বল দখলে রেখেছে, পাসের পর পাস খেলেছে, আক্রমণের পর আক্রমণ সাজিয়েছে। কিন্তু কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ছিল যেন কোনো দুর্গের প্রাচীর। সেই প্রাচীরের সবচেয়ে উঁচু মিনারের নাম ভোজিনিয়া।

৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষককে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি শুধু গোলপোস্ট পাহারা দিচ্ছেন না; পাহারা দিচ্ছেন একটি জাতির স্বপ্ন। স্পেনের প্রতিটি শট যখন ছুটে আসছিল বজ্রের মতো, তখন তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন পাহাড়ের মতো অবিচল। কখনো দুই হাত বাড়িয়ে, কখনো ঝাঁপিয়ে পড়ে, কখনো নিজের শরীরকে ঢাল বানিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন নিশ্চিত গোল।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফেরান তোরেসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে মিকেল ওইয়ারসাবালের হেডও তিনি অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন। তখন মনে হচ্ছিল, বল নয়, ভাগ্যই যেন স্পেনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আর সেই ভাগ্যের মুখ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ভোজিনিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের উদ্বেগ আরও বাড়ে। গোলের খোঁজে মাঠে নামানো হয় তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে। একদিকে ফুটবল জীবনের সূর্যোদয়, অন্যদিকে ভোজিনিয়ার ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ বিকেল। একজনের বয়স ১৮, অন্যজনের ৪০। দুই প্রজন্ম, দুই সময়, দুই গল্প। অথচ সেই মুহূর্তে দুজনই দাঁড়িয়ে ছিলেন একই ইতিহাসের পাতায়।

ম্যাচ যত শেষের দিকে এগিয়েছে, কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের লড়াই ততই মহাকাব্যিক হয়ে উঠেছে। তারা শুধু একটি দলের বিপক্ষে খেলেনি; খেলেছে সম্ভাবনার বিরুদ্ধে, খেলেছে সব পূর্বাভাসের বিরুদ্ধে।

আর যখন শেষ বাঁশি বেজে উঠল, তখন মনে হলো কেপ ভার্দে কোনো ড্র করেনি; তারা যেন জয় করেছে নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে। ভোজিনিয়ার চোখের অশ্রু তখন পরাজয়ের নয়, ছিল এক স্বপ্নপূরণের জলরেখা। সেই অশ্রুতে ভেসে উঠছিল একটি ছোট দেশের বড় হয়ে ওঠার গল্প।

বিশ্বকাপের সৌন্দর্য এখানেই। এখানে কখনো ড্র-ও জয়ের মতো উদ্‌যাপিত হয়। এখানে কখনো গোলশূন্য স্কোরলাইনও হয়ে ওঠে এক পূর্ণাঙ্গ কবিতা।

আটলান্টার রাত তাই শুধু একটি ম্যাচের সাক্ষী নয়। এটি ছিল সাহসের জয়গান, বিশ্বাসের উৎসব এবং ফুটবলের সেই চিরন্তন সত্যের পুনরাবৃত্তি; মাঠে নামার আগে সবাই সমান নয়, কিন্তু ইতিহাস লেখার অধিকার সবারই আছে। কেপ ভার্দে সেই অধিকার কাজে লাগিয়ে লিখে ফেলল বিশ্বকাপের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।