হবিগঞ্জ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা
মাইকিং ও উঠান বৈঠকে জনসচেতনতা বাড়াচ্ছে বিজিবি
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ ১৯:২৫
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে জোরপূর্বক পুশ-ইনের আশঙ্কা ও প্রবণতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে হবিগঞ্জ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। জেলার ১০৩ দশমিক ২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী এই ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ১৬টি বিওপি থেকে ২৪ ঘণ্টা টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার (৬ জুন) দিবাগত গভীর রাতে অন্যান্য দিনের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে ৫৫ বিজিবি। একই সঙ্গে সীমান্তসংলগ্ন গ্রামগুলোতে উঠান বৈঠকের আয়োজন করে স্থানীয় জনগণকে পুশ-ইন সংক্রান্ত ঝুঁকি, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং দ্রুত তথ্য প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
বিজিবির এ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।
৫৫ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি বিওপিতে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ, গ্রাম পুলিশ, আনসার-ভিডিপিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি এলাকায় নজরদারি রাখা হচ্ছে। রাত্রিকালীন নিরাপত্তা জোরদারে থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি উঠান বৈঠকের পরিধিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’
স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী গুইবিল এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক মো. মজনু মিয়া বলেন, ‘রাতে বিজিবি মাইকিং করে সতর্ক করায় আমরা অনেক সচেতন হয়েছি। বিজিবি সদস্যরা রাত-দিন পাহারা দিচ্ছেন, এতে আমরা নিরাপদ বোধ করছি।’
অন্যদিকে, মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া এলাকার চা-বাগান কর্মী মোহন লাল বলেন, ‘উঠান বৈঠকে বিজিবি আমাদের পুশ-ইন বিষয়ে বিস্তারিত বুঝিয়ে দিয়েছে। সন্দেহজনক লোকজন কীভাবে শনাক্ত করতে হয় এবং দেশের স্বার্থে কীভাবে বিজিবিকে তথ্য দিতে হয়, সে বিষয়েও আমাদের সচেতন করা হয়েছে। এতে আমরা নিজেরাও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারছি।’
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সীমান্ত এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সন্দেহজনক কোনো অনুপ্রবেশ বা তৎপরতা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্বমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে হবিগঞ্জ সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে ৫৫ বিজিবি।
