https://www.emjanews.com/

16225

economics

প্রকাশিত

০৮ জুন ২০২৬ ২১:৪৬

অর্থনীতি

রপ্তানি বাড়াতে চামড়া শিল্পে ২৩ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ ২১:৪৬

ছবি: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।

দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো ইন্টার-বন্ড ট্রান্সফার সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করা হবে একটি সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস (কেন্দ্রীয় বন্ডেড গুদাম)।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের উৎপাদনশীলতা, সক্ষমতা এবং রপ্তানি পারফরম্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২৩টি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন ও সরবরাহের সময় (লিড টাইম) কমাতে কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কমপ্লায়েন্ট জুতা ও চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘গ্রিন চ্যানেল’ সুবিধার আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, ট্যানারি মালিক ও ট্যানারিবিহীন রপ্তানিকারকরা ফ্ল্যাট রেট বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক আমদানি করতে পারবেন। এছাড়া সংকটে থাকা চামড়া কারখানাগুলোর ঋণ পুনঃতফসিলীকরণে সরকার নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক, জুতার উপকরণ ও বিভিন্ন অ্যাকসেসরিজ দেশেই উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং যৌথ উদ্যোগভিত্তিক প্রকল্পকে উৎসাহিত করা হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, রপ্তানিমুখী চামড়া শিল্পের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা ও ডিউটি ড্র-ব্যাক (শুল্ক প্রত্যর্পণ) প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আধুনিক করা হচ্ছে। পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের বহুমুখীকরণে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, চামড়া খাতের আধুনিকীকরণ, পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণে (বিএমআরই) একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও নারী উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি করা যায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘লেদার সেক্টর এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট রোডম্যাপ’ বাস্তবায়ন, একটি প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন এবং রপ্তানি-সংশ্লিষ্ট সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ‘এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড’ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

পণ্যের মান নিশ্চিত করতে উন্নত ল্যাবরেটরি ও সার্ভিস সেন্টার স্থাপন, উদ্যোক্তাদের দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ, পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক ব্যবহার উৎসাহিত করা এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া আধা-প্রসেসড বা ক্রাস্ট চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে ফিনিশড চামড়া উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের মানোন্নয়ন, ডিজাইন অ্যান্ড ফ্যাশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, লেদার টেকনোলজি কলেজের আধুনিকীকরণ এবং শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিকের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার আশা করছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে চামড়া খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।