ছবি: সংগৃহীত
প্রায় এক যুগ পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (নবম পে স্কেল) বাস্তবায়নের উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মিললেই আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন মূল বেতন কার্যকর হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি চলতি সপ্তাহেই পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের রূপরেখা অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। বর্তমানে প্রতিবেদনটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয় জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হবে।
সূত্র জানায়, সরকার শুরুতে তিন ধাপ ও দুই ধাপে বাস্তবায়নের দুটি বিকল্প নিয়ে কাজ করলেও বর্তমানে দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাই চূড়ান্ত হওয়ার পথে। তবে কারিগরি জটিলতা এড়াতে প্রথম ধাপেই সংশোধিত মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর করার সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। অনুমোদন মিললে জুলাইয়ের মাঝামাঝি অথবা তার পরের সপ্তাহেই গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।
নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে ১০০ শতাংশ বা তার কিছুটা কম এবং ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সঙ্গে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন, অথচ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন বরাদ্দ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকার বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সে সময় প্রথমে সংশোধিত মূল বেতন এবং পরের বছর সংশোধিত ভাতা কার্যকর করা হয়।
