শিরোনাম
তিস্তা ইস্যুতে ভারতের উদ্বেগ নাকচ, সহযোগিতা বাড়াবে চীন যাদুকাটা নদীতে বালু লুটের মহোৎসব, ধ্বংসের মুখে সীমান্তের পর্যটন নদী সিলেটে সুরমা-কুশিয়ারার পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা সিলেটকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার সিলেটে পৌঁছাবে কাতারে দুর্ঘটনায় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ সিলেটে উদ্ধার হওয়া ৬৮টি মোবাইল হস্তান্তর করল পুলিশ সিলেটে দেশের সবচেয়ে কম অপরাধ: আশার আলো দেখছে নগরবাসী জুলাই মাসে সিলেট নগরীতে চলাচলে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা সিলেটে বন্যার সতর্কতা জারি ৮ জেলায় তাপপ্রবাহ, সিলেটে ৫ দিন ভারী বর্ষণের আভাস

https://www.emjanews.com/

16750

sylhet

প্রকাশিত

২৯ জুন ২০২৬ ১৪:৪১

আপডেট

২৯ জুন ২০২৬ ১৫:৩২

সিলেট

সিলেটে দেশের সবচেয়ে কম অপরাধ: আশার আলো দেখছে নগরবাসী

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ ১৪:৪১

সিলেট নগরীতে সাম্প্রতিক সময়ের উদ্বেগজনক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বছরের শুরুর দিকে হঠাৎ করে ছিনতাই, চুরি ও খুনের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় জনমনে যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল, পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে তা এখন অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিল ও মে মাসে সারাদেশের মধ্যে বড় ধরণের অপরাধের হার সবচেয়ে কম ছিল সিলেটে, যা নগরবাসীর মনে নতুন করে নিরাপত্তার ও আশার আলো দেখিয়েছে।

মাঠ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতার কারণে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত ২১ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সারাদেশের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের এক সমন্বয় সভায় এই সাফল্যের চিত্র ফুটে ওঠে। তথ্যানুযায়ী, মে মাসে অন্যান্য বড় বিভাগে অপরাধের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে গেলেও সিলেটে তা ছিল মাত্র ১২৩টি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে যেসব অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড- যেমন পরিকল্পিত হত্যা, ধর্ষণ, মানবপাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপরাধ- সেগুলোকেই ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‍গুরুতর অপরাধ ছিল ৪৬৬টি এবং মে মাসে তা দাঁড়ায় ৪৮৫টিতে। রাজশাহী বিভাগে মে মাসে ২৬১টি। খুলনা বিভাগে এপ্রিলে ছিল ২১৯টি এবং মে মাসে ২৪২টি। বরিশাল বিভাগে এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ২২১টি। রংপুর বিভাগে মে মাসে ২৬৩টিতে দাঁড়ায়। ময়মনসিংহ বিভাগে এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ১৬২টি। আর সিলেট বিভাগে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা এপ্রিলে ছিল ১১৯টি এবং মে মাসে ১২৩টি। যা সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। 

সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) ধারাবাহিক চিরুনি অভিযান। এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম-এর নির্দেশনায় প্রতিদিন শহরজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে সহস্রাধিক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, যাদের মধ্যে হত্যা ও ধর্ষণের মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং দাগি অপরাধীরাও রয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি জোরদার তৎপরতা চালাচ্ছে র‌্যাব-৯। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বড় ধরনের কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হচ্ছে র‍্যাব।

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গুরুতর অপরাধ দমনের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও মাদক নির্মূলে তারা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এই সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকলে সিলেটে অপরাধের গ্রাফ আরও নিম্নমুখী হবে এবং সাধারণ মানুষ পূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারবেন।

এ বিষয়ে এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি অপরাধীদের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, 'আমাদের বিশেষ অভিযানের ফলে চুরি, ছিনতাই ও মাদক কারবারিদের শক্তভাবে দমন করা সম্ভব হচ্ছে। আমরা সিলেটকে একটি নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।'