শিরোনাম
তিস্তা ইস্যুতে ভারতের উদ্বেগ নাকচ, সহযোগিতা বাড়াবে চীন যাদুকাটা নদীতে বালু লুটের মহোৎসব, ধ্বংসের মুখে সীমান্তের পর্যটন নদী সিলেটে সুরমা-কুশিয়ারার পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা সিলেটকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার সিলেটে পৌঁছাবে কাতারে দুর্ঘটনায় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ সিলেটে উদ্ধার হওয়া ৬৮টি মোবাইল হস্তান্তর করল পুলিশ সিলেটে দেশের সবচেয়ে কম অপরাধ: আশার আলো দেখছে নগরবাসী জুলাই মাসে সিলেট নগরীতে চলাচলে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা সিলেটে বন্যার সতর্কতা জারি ৮ জেলায় তাপপ্রবাহ, সিলেটে ৫ দিন ভারী বর্ষণের আভাস

https://www.emjanews.com/

16765

sylhet

প্রকাশিত

২৯ জুন ২০২৬ ২০:২৯

সিলেট

যাদুকাটা নদীতে বালু লুটের মহোৎসব, ধ্বংসের মুখে সীমান্তের পর্যটন নদী

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ ২০:২৯

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি রাতে শতাধিক ড্রেজার বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ ও দুই তীর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত দেড় মাসে নদীর প্রস্থ কয়েক স্থানে প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়ে গেছে এবং শত শত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ইজারার আড়ালে প্রভাবশালীরা অবাধে নদী কেটে বালু উত্তোলন করছেন। এবার প্রথমবারের মতো বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী একসঙ্গে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যাদুকাটা নদীতে দুটি বালুমহাল- যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২-এবং একটি ফাজিলপুর বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারি রয়েছে। ১৪৩২ বাংলা সনে দুটি বালুমহাল মোট ১০৬ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। তবে নতুন ইজারা কার্যক্রম আদালতের আদেশে স্থগিত থাকায় সেই সুযোগে নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, শুষ্ক মৌসুমে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এই নদীতে রাতের আঁধারে শতাধিক ড্রেজার চালিয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়েও যাদুকাটা নদীতে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করা যাচ্ছে না। রাতের অন্ধকারে বালু উত্তোলন করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কয়েকজনকে আটক করে জেল-জরিমানাও করা হয়েছে। এবার পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটও চাওয়া হয়েছে।

এদিকে যাদুকাটা নদী রক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি গত ২৫ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করে নদীর দুই তীর ও আশপাশের পর্যটন এলাকা রক্ষায় কোস্ট গার্ড মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যাদুকাটা-১ বালুমহালের ইজারাদার নাছির মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে পরে কথা বলবেন জানান। অপর ইজারাদার শাহ রুবেল আহমেদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।