কানাইঘাটে সরকারি জলমহাল দখলমুক্তের দাবি এলাকাবাসীর
দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলের অভিযোগ; রাজস্ব হারানোর দাবি, অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তদের
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ ২২:১৭
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সরকারি খাস জলমহাল ‘বাদিকুঁড়ি বিল’ (বদিবিল) দখলমুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল জলমহালটি দখলে রেখে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে বাধা দিয়ে আসছে। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, উপজেলার ৯ নম্বর রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেহগঞ্জ হাওর মৌজার ৮৭ নম্বর জে.এল.-এ অবস্থিত প্রায় ৩ দশমিক ৮৩ একর আয়তনের সরকারি খাস জলমহাল বাদিকুঁড়ি বিল দীর্ঘদিন ধরে আশরাফ সিদ্দিকী সুহেল ও তার ভাই রুহেল আহমদ মুরাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার বিলটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও প্রভাবশালীদের বাধার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০১১ সালে সরকারি প্রক্রিয়ায় ইজারা নেওয়ার পরও একজন মৎস্য ব্যবসায়ী বিলটির দখল বুঝে নিতে ব্যর্থ হন।
এ ঘটনায় জনস্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল মুহিত ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (প্রথম আদালত)-এ একটি মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে তিন শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দার স্বাক্ষরসংবলিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে বিলের সঙ্গে আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমি একাকার হয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় জেলে ও দরিদ্র মানুষ মাছ ধরতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটে।
মইনার পাহাড় গ্রামের বাসিন্দা তেরা মিয়া শিকদার অভিযোগ করে বলেন, বিলসংলগ্ন তার চার বিঘা জমির মাছও প্রতি বছর জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার বাদী আব্দুল মুহিত বলেন, দেড় যুগের বেশি সময় ধরে বিলের মাছ বিক্রির অর্থ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিলটি নিয়ে এর আগে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় মৎস্যজীবী বাবুল আহমদ, রাসেল আহমদ, আরব উল্লাহ ও ইসলাম উদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, প্রায় দুই দশক ধরে তারা সরকারি জলমহালে মাছ ধরতে পারছেন না। মাছ ধরতে গেলে জাল কেড়ে নেওয়া এবং মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমদ বলেন, সরকারি সম্পদ দখল করে রাখা আইনবিরোধী। দ্রুত জলমহালটি উদ্ধার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আশরাফ সিদ্দিকী সুহেল ও রুহেল আহমদ মুরাদ। তাদের দাবি, বিলের আয় কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের একক নিয়ন্ত্রণে নয়; এলাকার অনেক মানুষ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা আরও জানান, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং এ নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, বিলটি সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। টাকা ভাগ-বাটোয়ারার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
