https://www.emjanews.com/

16877

international

প্রকাশিত

০৪ জুলাই ২০২৬ ২০:০২

আন্তর্জাতিক

সৌদিতে বিদেশিদের সম্পত্তি ক্রয়ে নতুন আইন

সৌদি আরবে বিদেশিদের সম্পদ ক্রয়ের নতুন নীতিমালা অনুমোদিত। ডিজিটাল আইডি বাধ্যতামূলক ও আইন লঙ্ঘনে ১ কোটি রিয়াল জরিমানার বিধান। মক্কা-মদিনায় নিষেধাজ্ঞা বহাল।

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ ২০:০২

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের আবাসন বাজারকে আরও গতিশীল করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন এক যুগান্তকারী নীতিমালা অনুমোদন করেছে দেশটির সরকার। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনাবাসী ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই আবাসন আইন সংস্কার করা হয়েছে। তবে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়লেও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে আনা হয়েছে কঠোর নিয়ম ও চড়া জরিমানার বিধান।

নতুন আইন অনুযায়ী, অনাবাসী কোনো বিদেশি নাগরিক সৌদি আরবে সম্পত্তি কিনতে চাইলে তাকে অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ডিজিটাল আইডি বা পরিচিতি নম্বর গ্রহণ করতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্রেতার নিজস্ব নামে স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল আইডির সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন থেকে সমস্ত আবাসন লেনদেন রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির সমন্বিত ইলেকট্রনিক পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। অনাবাসী ব্যক্তি ছাড়াও বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি অংশীদার থাকা সৌদি কোম্পানিগুলোকেও এই ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার আওতায় আসতে হবে।

বিদেশি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধিত হতে হবে এবং তাদের প্রকৃত মালিকদের (বেনিফিশিয়াল ওনার) তথ্য বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে হবে। কোম্পানির মালিকানায় ৫ শতাংশ বা তার বেশি পরিবর্তন এলে ১৫ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরিবারের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি নাগরিক আবাসিক সম্পত্তি কিনলে তার বিদেশি স্ত্রী ও সন্তানদের নির্ভরশীল হিসেবে গণ্য করা হবে, ফলে তারা পৃথকভাবে অন্য কোনো বাড়ির মালিক হতে পারবেন না। তবে সন্তানদের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে বা বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য।

ধর্মীয় পবিত্রতা ও কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় মক্কা ও মদিনায় বিদেশি মালিকানার ওপর আগের কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। এই দুই পবিত্র শহরে সম্পত্তি কেনার অধিকার কেবল সৌদি মুসলিম নাগরিকদের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়াও রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় বিদেশি লেনদেনের ওপর ২ শতাংশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জনস্বার্থে অধিগ্রহণ বা উত্তরাধিকারের মতো ১০টি বিশেষ ক্ষেত্রকে এই ফির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সৌদি রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি। জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা নেওয়ার চেষ্টা করলে সম্পত্তির মূল্যের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১ কোটি সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে ত্রুটি সংশোধনের জন্য ১০ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। সব ধরনের লেনদেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদিত ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল চূড়ান্ত মালিকানা দলিল বা টাইটেল ডিড হস্তান্তর করা হবে।