ছবি: সংগৃহীত
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জঙ্গিবাদ দমনে নিয়োজিত পুলিশের বিশেষায়িত দুটি ইউনিটের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ রুখতে বিশেষভাবে পরিচিত ‘অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট’ (এটিইউ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের ‘কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম’ (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম বদলে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ (এসএসইউ) রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পাঠানো এই প্রস্তাবটি বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৭ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এটিইউ-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ (এসএসইউ) করার অনুমোদন চাওয়া হয়। পরদিন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো অপর এক পত্রে সিটিটিসি ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি’ (এসএসইউ-ডিএমপি) করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইজিপির পক্ষে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এই প্রস্তাবে মূলত প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইউনিটগুলোর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে, তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
মিডিয়া শাখার এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানান, সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিগত হুমকির মোকাবিলা করা সহজ হবে।
নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইন্টারনেট প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে উদ্ভূত নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম ও অর্থায়নে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এবং অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটিইউ-এর ভূমিকা শুধু জঙ্গিবাদ দমনে সীমাবদ্ধ না রেখে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই রূপান্তর।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এটিইউ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। নতুন নামকরণের ফলে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও বিদেশি সহযোগিতা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।
