https://www.emjanews.com/

16881

economics

প্রকাশিত

০৪ জুলাই ২০২৬ ২০:৪৬

আপডেট

০৪ জুলাই ২০২৬ ২০:৫০

অর্থনীতি

স্থবির শ্রমবাজার: নতুন সম্ভাবনা ও সংকটের মুখে জনশক্তি খাত

মালয়েশিয়া, আমিরাত ও ওমানের মতো বড় শ্রমবাজারগুলোতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ আটকে থাকায় রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব। সংকট কাটাতে জিটুজি উদ্যোগ ও দক্ষ জনশক্তির ওপর গুরুত্বারোপ।

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ ২০:৪৬

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও বড় শ্রমবাজারগুলো দীর্ঘ দিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের মতো শীর্ষ গন্তব্যগুলোতে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ থাকায় দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট, আকাশচুম্বী অভিবাসন ব্যয় এবং দক্ষ কর্মীর অভাবকে এই সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই অচলাবস্থা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং 'জিটুজি' (সরকার টু সরকার) উদ্যোগ বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার পথ খুঁজছে সরকার।

দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর লক্ষ্যে সম্প্রতি দুই দেশ নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে একমত হয়েছে। সিন্ডিকেট ভাঙতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে চুক্তির নতুন খসড়া তৈরি হবে। আগামী বছরের জুন মাস থেকে কোটা বৃদ্ধি সাপেক্ষে দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

অন্যদিকে, ৩২ মাস ধরে নতুন প্রবেশ বন্ধ থাকা ওমানের শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে চলতি মাসেই দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ওমান সরকার আকামা ও ভিসা ট্রান্সফারে কিছুটা শিথিলতা আনলেও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এখনো বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে সাধারণ শ্রমিকের চেয়ে দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বেশি থাকলেও বাংলাদেশ থেকে অধিকাংশই যাচ্ছেন অদক্ষ কর্মী। এছাড়া অসাধু রিক্রুটিং চক্রের কারণে অভিবাসন ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশের ওপর অনীহা প্রকাশ করছেন। সিন্ডিকেটমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে।

বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী জানান, প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকেন। বর্তমানে কেবল সৌদি আরবের বাজারটি বড় পরিসরে খোলা রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন শ্রমবাজার খুলতে হলে জিটুজি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। সম্প্রতি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে উচ্চতর ফলপ্রসূ আলোচনার ফলে মালয়েশিয়া বাজার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং জোরালো শ্রম কূটনীতির মাধ্যমেই কেবল এই বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।