মৌলভীবাজারে স্ত্রীকে হত্যা করে ৮ ফুট মাটির নিচে লাশ গুম, ১৯ দিন পর মরদেহ উদ্ধার
স্বামী কারাগারে, আরও একজন আটক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৯
ছবি: ইমজা নিউজ
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়নে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাড়ির উঠানের সামনের টিলায় প্রায় ৮ ফুট গভীর গর্তে লাশ পুঁতে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার ১৯ দিন পর নিহত গৃহবধূ জায়েদা বেগম (২৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী আলমগীর হোসেন (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন হিসেবে জালাল আহমদকে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি গ্রামের আলমগীরের বসতবাড়ির উঠানের সামনের টিলা খুঁড়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের এবং রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল শিকদার।
পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জায়েদা বেগম রাজনগর উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তাঁর স্বামী আলমগীর হোসেনের বাড়ি রাজনগর চা বাগান এলাকায়। তাদের সংসারে ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন জায়েদার কোনো খোঁজ না পেয়ে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে আলমগীর দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে না পারায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সন্দেহ হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্ব পান রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অরূপ সরকার।
তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৫ জুলাই বিকেলে আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী ১৯ জুন সৌদি আরবে চলে গেছেন। কিন্তু বক্তব্যে অসংগতি ও সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেলে তাকে থানায় এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আলমগীর স্বীকার করেন, গত ১৭ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি স্ত্রী জায়েদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরদিন গভীর রাতে মরদেহটি লোকচক্ষুর আড়ালে নিজ বসতবাড়ির উঠানের সামনে প্রায় ৮ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা দেওয়া অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া বর্তমানে ছুটিতে থাকলেও মোবাইল ফোনে ইমজা নিউজকে জানান, স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি আলমগীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় রাজনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে আটক আমিনুল ইসলাম ও নুরুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে জালাল আহমদকে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
