অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা
আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করছে ইসি। প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা ভোটের সম্ভাবনা। থাকছে না ইভিএম ও অনলাইন মনোনয়নপত্র।
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ ২৩:০৯
ছবি: সংগৃহীত
আগামী অক্টোবর মাস থেকে দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিশাল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই কর্মপরিকল্পনার শুরুর ধাপেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আইন ও সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সব পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে। অক্টোবরের সম্ভাব্য সময়সূচি সামনে রেখে কমিশন ইতোমধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
প্রশাসনিক গুরুত্ব ও বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনারের ভাষ্যমতে, উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে এই দুই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার আগে জনপরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব, আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক বাস্তবতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ না হলেও কমিশন নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছে। সরকারের সবুজ সংকেত পেলে মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই ভোটগ্রহণের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আসন্ন এই নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জন্য থাকছে বড় কিছু পরিবর্তন। ইতোমধ্যেই নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। তবে এবার ভোটগ্রহণে কোনো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না এবং থাকছে না অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ। ডিজিটাল ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সনাতন পদ্ধতিতেই জোর দিচ্ছে কমিশন।
এছাড়া এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট এবং জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারের সুযোগও থাকছে না।
সারাদেশে বর্তমানে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনার মাছউদ জানান, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার ইতিহাস থাকায় এবার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করবে ইসি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সংসদে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একটি মানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে নির্বাচন কমিশন।
