সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সগুলোর টাকা দ্বিতীয়বারের মতো গণনা চলছে। শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়। মাজারের তিনটি বড় ঐতিহাসিক ডেগ এবং ছোট-বড় ৫টি দানবাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়া গেছে। তবে এবার টাকার সাথে পাওয়া বেশ কিছু চিরকুট চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
মাজারের দানবাক্সে পাওয়া এসব চিরকুটে ভক্তদের নানা আর্তি ও অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। কেউ লিখেছেন চাকরি পেলে মাজারে খাসি দান করবেন, আবার কোনো চিরকুটে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ করে জনৈক আবু জলিল হাবিবের নামে পাওয়া একটি চিরকুট নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। সেখানে ‘খোকন’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাজারের পশু কেনাবেচায় তছরুপ ও কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির অভিযোগ এনে তার বিচার চাওয়া হয়েছে।
আবু জলিল হাবিব নােম একজনের নামে একজনের নামে পাওয়া একটি চিরকুটে সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। এই চিরকুটেই খোকন নামে একজনের বিরুদ্ধে নানা অিভেযাগো আনা হয়েছে।
চিরকুটে লেখা রয়েছে- ‘খোকন বাটপার সে মাজারের গরু, ছাগল, হাঁস, মোরগ বেচাকেনা করে। মাজারের খাদেমের অর্ধেকেরও বেশি তার ইশারায় চলে। খোকনের কারণে পূর্বের অনেক কর্মরত কর্মচারী চাকরি হারা, তাদের মধ্যে কিছু বর্তমানে সবজি বিক্রি করে জীবন জীবিকা চালায়। আমি চাই তার সঠিক বিচার হউক’। শেষ অংশে লেখা রয়েছে- ‘সারোয়ার আলম ফিরে আসুক সিলেটে’। তবে চিরকুটের উল্লেখিত খোকন নামের ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সাবেক ডিসি সারোয়ার আলম মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রথমবারের মতো দানবাক্স সিলগালা ও প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। গত ২১ জুন তাকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়।
