ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের সীমান্ত এলাকাগুলোতে চোরাচালান ও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য রুখতে অত্যন্ত কঠোর ও সমন্বিত অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
সোমবার (২০ জুলাই) সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চোরাচালান প্রতিরোধ আঞ্চলিক টাস্কফোর্স ও বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সভায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, চোরাচালান বা অবৈধ ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান জানান, সীমান্ত সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন এখন থেকে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। এছাড়া অবৈধ করাতকল বন্ধ এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সালফারযুক্ত কয়লার চোরাচালান ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সম্মিলিতভাবে মাঠে নামার আহ্বান জানান।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভূমিকার প্রশংসা করে বিভাগীয় কমিশনার তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেন। একইসঙ্গে পাথর কোয়ারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে শিগগিরই নতুন নির্দেশনা আসছে বলেও সভায় জানানো হয়েছে।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনাই নয়, সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই সামাজিক ব্যাধি রোধে ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জুমার খুতবায় জমানদের মাধ্যমে আত্মহত্যার কুফল নিয়ে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্গম এলাকায় হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান, কৃষি জমির মাটি কাটা বন্ধ এবং বালু ও পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।
এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ে অভিযান জোরদার এবং সিলেট মহানগরীর গৃহকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সভায়।
