https://www.emjanews.com/

17669

sylhet

প্রকাশিত

০৯ আগস্ট ২০২৬ ১৭:০০

আপডেট

০৯ আগস্ট ২০২৬ ১৭:০১

সিলেট

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ফের দু/র্ঘ/টনা: এবার প্রাণ গেলো ২ জনের

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১৭:০০

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ। ওসমানীনগরে বাস দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হবিগঞ্জের মাধবপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

আজ রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেজুরা সেতু এলাকায় তেলবাহী লরি, বালুবাহী ট্রাক ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মাধবপুর উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা রিপন মিয়া (২৭) এবং পশ্চিম মাধবপুর এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে আবুল খায়ের (৫০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে বেজুরা সেতুর ওপর একটি তেলবাহী লরি ও বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবাহী ট্রাকটি পাশ দিয়ে চলা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর উঠে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকে থাকা রিপন মিয়া ও সিএনজির যাত্রী আবুল খায়ের নিহত হন।

খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ, শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে যানবাহন সরিয়ে নিলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মাধবপুর থানার উপপরিদর্শক ফারুক মিয়া জানান, লরি ও ট্রাকের সংঘর্ষের পর ট্রাকটি সিএনজির ওপর উঠে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপুর এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ১৬ জন।

এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি বা চালকের অসতর্কতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কারণই চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না।

দুর্ঘটনার পর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আহতদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা এবং আইসিইউতে থাকা একজনকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ক্রমাগত এসব দুর্ঘটনায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।