ইলিয়াস আলী গুম: ট্রাইব্যুনালে সাইফুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ ২০:১০
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীকে গুমের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রোববার এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম।
এর আগে গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের দেওয়া জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।
পরে ২৬ জুলাই রাতে সাইফুর রহমানকে তার বাসা থেকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। এরপর তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
প্রসিকিউশন গত বৃহস্পতিবার সাইফুর রহমানকে ইলিয়াস আলী গুমের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
তবে সাইফুর রহমান বর্তমানে সেনা হেফাজতে থাকায় তাকে নতুন করে আটক করার প্রয়োজন হবে না। পরোয়ানা জারির পর তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
মামলার নথি ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা সরাসরি জড়িত ছিলেন।
সাইফুর রহমান সে সময় বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার হিসেবে র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিমান বাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি বিমান সদর দপ্তরের ‘ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিং’-এর ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
