https://www.emjanews.com/

17694

sylhet

প্রকাশিত

১০ আগস্ট ২০২৬ ১৪:৫৩

আপডেট

১০ আগস্ট ২০২৬ ১৭:১২

সিলেট

সিলেট অগ্রগামী স্কুলে এসএসসি উত্তীর্ণদের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ ১৪:৫৩

অগ্রগামী স্কুলের ভাইকিং রো ছবি: ইমজা নিউজ

ফল প্রকাশের অপেক্ষায় সকাল থেকেই প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় ভিড় জমিয়েছিল তারা। কারও চোখে উৎকণ্ঠা, কারও মুখে প্রত্যাশার হাসি। ফল হাতে পাওয়ার পর সেই অপেক্ষা রূপ নিল বাঁধভাঙা আনন্দে। আর সেই আনন্দে যোগ হলো এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের আলোচিত ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সিলেট অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ফলাফল জানতে স্কুলে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা ড্রামের তালে তালে নরওয়ের খেলোয়াড়দের অনুকরণে ব্যতিক্রমী ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন করেন।

এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হারানোর পর নরওয়ের খেলোয়াড়দের অভিনব উদযাপন ব্যাপক আলোচনায় আসে। খেলোয়াড়রা সারিবদ্ধভাবে বসে বা হাঁটু গেড়ে ভাইকিংদের লংবোটের আদল তৈরি করে সমন্বিতভাবে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করেন। সেই সঙ্গে ড্রামের তালে তালে পুরো উদযাপন হয়ে ওঠে আরও ছন্দময় ও আবেগঘন। দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ছিলেন সেই উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে। তার ড্রামের তালে স্টেডিয়ামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল বিজয়ের উচ্ছ্বাস।

সেই দৃশ্যই যেন এবার সিলেট অগ্রগামী স্কুলের প্রাঙ্গণে নতুন করে প্রাণ পেল।

এসএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে বসে, হাতের তাল ও ড্রামের ছন্দে তৈরি করেন ‘ভাইকিং রো’-এর আদল। মুহূর্তেই স্কুলের আঙিনা পরিণত হয় আনন্দের এক ছোট্ট উৎসবস্থলে। কেউ ড্রাম বাজাচ্ছেন, কেউ ছন্দ মিলিয়ে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করছেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে উদযাপনে মেতে উঠেছেন।

শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে তখন সাফল্যের দীপ্তি। দীর্ঘদিনের পড়াশোনা, পরীক্ষা আর ফলাফলের দুশ্চিন্তা যেন মুহূর্তেই মিলিয়ে গেছে উল্লাসের স্রোতে। বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এই আনন্দে ছিল একদিকে প্রাপ্তির স্বস্তি, অন্যদিকে স্কুলজীবনের স্মৃতি ধরে রাখার আবেগ।

উদযাপনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফলাফল নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক উত্তেজনা ছিল। ফল ভালো হওয়ায় সবাই মিলে আনন্দ করার সিদ্ধান্ত নিই। বিশ্বকাপে নরওয়ের ভাইকিং রো উদযাপনটি আমাদের খুব ভালো লেগেছিল। তাই সেটিই অনুকরণ করে আনন্দ করেছি।’

শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখে শিক্ষক ও অভিভাবকরাও মুগ্ধ হন। তাদের চোখের সামনে যেন একটি প্রজন্মের কৈশোর পেরিয়ে নতুন স্বপ্নের পথে পা রাখার দৃশ্য ফুটে ওঠে।

ফলাফল একটি সংখ্যার হিসাব হলেও, শিক্ষার্থীদের কাছে এ দিনটি ছিল আরও অনেক বেশি কিছু; বন্ধুত্ব, স্মৃতি, সাফল্য আর ভবিষ্যতের স্বপ্নকে একসঙ্গে উদযাপনের দিন। আর সেই উদযাপনে ‘ভাইকিং রো’ হয়ে উঠল তাদের আনন্দের প্রতীক।

ড্রামের শব্দে, উচ্ছ্বাসের স্লোগানে আর বন্ধুদের হাসিতে সেদিন সিলেট অগ্রগামী স্কুলের প্রাঙ্গণ যেন বলে উঠেছিল; একটি অধ্যায়ের শেষ মানেই আরেকটি নতুন অভিযানের শুরু।