https://www.emjanews.com/

17718

surplus

প্রকাশিত

১১ আগস্ট ২০২৬ ১২:২৮

অন্যান্য

প্রায় ২ লাখ ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ ১২:২৮

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি- এসব অভিযোগে ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত পররাষ্ট্র দপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অধিকাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল এবং বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা যেন শর্ত মেনে চলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি না করেন, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবেই এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

ভিসা বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ। এ ছাড়া কিছু গুরুতর অপরাধের অভিযোগেও ভিসা বাতিল করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, আরেকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানবপাচারের অভিযোগ এবং শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণ রাখার অভিযোগে একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ভিসা বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০টিরও বেশি তথাকথিত জন্ম পর্যটন ভিসা বাতিল করেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যক্তি সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এক রক্ষণশীল অধিকারকর্মীর হত্যাকাণ্ডে উল্লাস প্রকাশ করায় কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এ ধরনের আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

পররাষ্ট্র দপ্তর জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি সুবিধা। এই সুবিধার অপব্যবহার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে ভিসা বাতিল করা হবে।

এদিকে, ভিসা প্রদান প্রক্রিয়ায়ও কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি এবং ব্যাপক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আবেদনকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তবে এই সামাজিক মাধ্যম নজরদারির কড়া সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি বাকস্বাধীনতার জন্য হুমকি এবং অভিবাসীদের ওপর বাড়তি নজরদারি তৈরি করছে।