শিরোনাম
নতুন করে যাচাই হবে জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা, বাদ পড়াদের আবেদনের সুযোগ জানা গেল সরকারি চাকুরিতে শূন্য পদের সংখ্যা সাবেক এমপি সুলতান মনসুর ফের গ্রেপ্তার সিলেটে ৮৫ পূজামণ্ডপে সিসিকের সর্বাত্মক প্রস্তুতি চাকরির আশায় রাশিয়ায়, যুদ্ধে প্রাণ গেল ২০ বাংলাদেশির: এসআরবি পানি-মোটরসাইকেল যেনো কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে শাবির সম্ভাবনাময় তরুণদের: ১০ মাসে ঝরল ৭ প্রাণ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নি/হ/ত সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় নতুন হাম শনাক্ত ও মৃত্যু নেই, ভর্তি ১২৩ ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সিলেটে মোটরবাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল কিশোরের

https://www.emjanews.com/

18160

surplus

প্রকাশিত

২৮ আগস্ট ২০২৬ ২১:০৮

অন্যান্য

অবশেষে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ, উৎসবে মাতল বিয়ানীবাজার

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ২১:০৮

ছবি: সংগৃহীত

সব অনিশ্চয়তা পেরিয়ে সিলেটের বিয়ানীবাজারে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

তীব্র রোদ উপেক্ষা করে নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন হাজারো মানুষ। বিকেল ৪টার দিকে শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। বৈঠার ছন্দে নদীর বুক চিরে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে নামে প্রতিযোগী নৌকাগুলো। পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের নগরে।

এবারের প্রতিযোগিতায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা থেকে আসা ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ ও ‘পাগলা নাও’ নামের তিনটি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে নদীর দুই তীরে অবস্থান নেওয়া দর্শনার্থীরা করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর করে তোলেন চারপাশ।

তবে এবারের আয়োজন ঘিরে শুরু থেকেই কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। স্থানীয় একটি পক্ষের বিরোধিতায় একপর্যায়ে নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টির সমাধান হয়।

সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সুনাই নদীতে এটিই হবে শেষ নৌকাবাইচ। নদীর তীরের ফসলি জমি রক্ষা ও ভাঙন প্রতিরোধের স্বার্থে আগামী বছর থেকে এ নদীতে আর নৌকাবাইচ আয়োজন করা হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন দশক ধরে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যের শেষ আয়োজন দেখতে সিলেট শহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে স্বজনদের বাড়িতে এসেছেন। ফলে এবার দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

উৎসবে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য শেষবারের মতো উদযাপিত হওয়ায় উৎসবে ছিল আনন্দের আবহ। তবে বিদায়ী এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের ছায়াও দেখা গেছে।