‘সিলেটিরা শুদ্ধ বাংলা বলতে পারে না’, হুমায়রা নূরের বক্তব্যে প্রতিবাদের ঝড়
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ২৩:৩৯
এনসিপি নেত্রী হুমায়রা নূর (ছবি: সংগৃহীত)
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী হুমায়রা নূরের ‘সিলেটিরা শুদ্ধ বাংলা বলতে পারে না’ এবং সিলেটি ভাষাকে ‘সিলেটি বাংলা’ হিসেবে উল্লেখ করার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ বক্তব্যের সমালোচনা করে সিলেটি ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বিপিএল এর সিলেট সিক্সার্সের স্বত্বাধিকারী ফাহিম আল চৌধুরী এক ফেসবুক পোস্টে হুমায়রা নূরের বক্তব্যের সমালোচনা করে লেখেন, ‘আপনার মুখে শুদ্ধ বাংলার বড় বড় বুলি শোভা পায় না, যখন আপনার চিন্তা আঞ্চলিক বিদ্বেষে কলুষিত এবং বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার থেকে বঞ্চিত।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ভাষা শুদ্ধ হওয়ার আগে মন, জ্ঞান ও আচরণ শুদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। একটি অঞ্চলের মানুষের উচ্চারণ নিয়ে উপহাস করা কোনো যোগ্যতা নয়, এটি আপনার অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা ও মানসিক দীনতারই প্রকাশ।’
ফাহিম আল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব ভাষা আছে, ইতিহাস আছে, অবদান আছে এবং মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো গৌরব আছে। আমাদের ভাষা নিয়ে আমরা লজ্জিত নই, আমরা গর্বিত।’
সিলেটের সাংবাদিক কামকামুর রুনুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমায়রা নূরের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি লেখেন, ‘সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে এনসিপি নেত্রী হুমায়রা নূর “সিলেটিরা শুদ্ধ বাংলা বলতে পারে না” এবং সিলেটি ভাষাকে “সিলেটি বাংলা” বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সিলেটবাসীকে মর্মাহত করেছে।’
সিলেটি ভাষা সম্পর্কে হুমায়রা নূরের বক্তব্যকে ‘অজ্ঞতাপ্রসূত’ উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, ‘সিলেটি ভাষা সম্পর্কে তিনি আসলে কিছুই জানেন না। এটি যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ভাষা, সেটিও তাঁর অজানা।’
কামকামুর রুনুর ভাষ্য, হুমায়রা নূরের বক্তব্যে শুধু সিলেট নয়, বিশ্বব্যাপী সিলেটিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি সিলেটবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে সঙ্গীতশিল্পী লাভলী দেব তাঁর ফেসবুক পোস্টে সিলেটের ভাষা ও সাহিত্যিক ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, ‘সিলেটের মানুষকে শুধু তাদের আঞ্চলিক উচ্চারণ দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়।’
তিনি লেখেন, ‘যে মাটিতে সৈয়দ মুজতবা আলীর মতো কথাশিল্পী জন্মেছেন, যে মাটিতে রাধারমণ ও হাছন রাজার মতো সাধক কবিরা বাংলা ভাষার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন, যে ভূখণ্ডে যুগের পর যুগ গবেষণা, শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চা হয়েছে; সেই সিলেটের মানুষের ভাষা ও জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য নিঃসন্দেহে গর্ব করার মতো।’
লাভলী দেব আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক ভাষা আমাদের শিকড়, আর শুদ্ধ বাংলা আমাদের বৃহত্তর সাহিত্যিক পরিচয়ের অংশ। সিলেট তাই শুধু চায়ের দেশ নয়; সিলেট জ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষারও এক গর্বিত জনপদ।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব প্রতিক্রিয়ায় বক্তারা সিলেটি ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা না করে বাংলাদেশের বহুভাষিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
