সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা, আর হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, একই সময়ে নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত না হলেও বিভিন্ন হাসপাতালে ১১২ জন সন্দেহজনক রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪৬৬ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৌলভীবাজারের ১৮ বছর বয়সী সুমাইয়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৮ জনে।
জেলা ভিত্তিক হিসাবে সিলেটে ৬৪ জন, হবিগঞ্জে ২১ জন, মৌলভীবাজারে ১৪ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত্যুর মধ্যে ১৪৮ জন সন্দেহজনক এবং ১০ জন নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছেন।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ জন। এছাড়া মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৩ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন এবং বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও কয়েকজন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে ভর্তি ৪৬৬ জন রোগীর মধ্যে ১৯১ জন রয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং ১৪১ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৫ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ জনসহ অন্যান্য জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে বাকি রোগীরা চিকিৎসাধীন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন রয়েছেন। হবিগঞ্জে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত রোগীর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। একদিনেই ১১২ জন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে, ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন চিকিৎসকরা।
