সিলেটসহ সারাদেশে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি: ৯ কারণে হতে পারে বাতিল
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:২২
ছবি: ইমজা নিউজ
মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করেছে সরকার। তবে এ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে নির্দিষ্ট শর্ত। নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ৯টি কারণে বাতিল হতে পারে সম্মানি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সম্মানি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার বা গির্জায় কর্মরত থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্রও থাকতে হবে।
এই নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেবকদের মাসিক সম্মানি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে দেওয়া হবে উৎসব ভাতাও।
সরকার বলছে, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যেই এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
যেসব ৯ কারণে সম্মানি বাতিল
নীতিমালায় নির্দিষ্ট ৯টি পরিস্থিতিতে সম্মানি বাতিলের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো—
১. নৈতিক স্খলন বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে
কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে তার সম্মানি বাতিল হবে।
২. চাকরিচ্যুত বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে
সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হলে বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সম্মানি বাতিল বলে গণ্য হবে।
৩. তথ্য জালিয়াতি প্রমাণিত হলে
সম্মানি পাওয়ার জন্য দেওয়া তথ্যে কোনো ধরনের জালিয়াতি প্রমাণিত হলে এ সুবিধা বাতিল হবে।
৪. রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে
কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকলে তার সম্মানি বাতিল হবে।
৫. সম্মানিভোগীর মৃত্যু হলে
কোনো সম্মানিভোগী ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার সম্মানি বাতিল বলে গণ্য হবে।
৬. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত না থাকলে
মসজিদ বা অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত না থাকা সত্ত্বেও কেউ সম্মানিভোগী হিসেবে নির্বাচিত হলে তার সম্মানি বাতিল হবে।
৭. অন্য কোনো উৎস থেকে বেতন-ভাতা পেলে
অন্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, ট্রাস্ট, বিদেশি সংস্থা বা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কোনো ধরনের বেতন-ভাতা পেলে তিনি এ কর্মসূচির আওতায় সম্মানি পাওয়ার যোগ্য হবেন না।
৮. সমাজবিরোধী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে
কোনো ব্যক্তি সমাজবিরোধী বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমনটি প্রমাণিত হলে তার সম্মানি বাতিল হবে।
৯. রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে
কোনো ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে বা থাকলে তিনি এ কর্মসূচির আওতায় সম্মানি পাওয়ার যোগ্য হবেন না।
সিলেটেও প্রভাব পড়বে
সরকারের নতুন এ নীতিমালার আওতায় সিলেট বিভাগের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় কর্মরত যোগ্য ব্যক্তিরাও আসবেন। ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মরত সেবকদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের যোগ্যতা ও কার্যক্রমের ওপরও নজরদারি বাড়বে।
