জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মামলা: ডিভাইস পরীক্ষা করেও প্রমাণ মেলেনি
‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে, দাবি সাবেক বঙ্গভবন কর্মীর, তদন্তে জামায়াত আমিরের মোবাইল ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চায় ডিবি
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ২১:২৭
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জামিনে থাকা বঙ্গভবনের সাবেক সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম দাবি করেছেন, ওই অ্যাকাউন্ট হ্যাকের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার অভিযোগ, তাকে এ মামলায় ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।
ছরওয়ারে আলমের দাবি, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ডেস্কটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস পরীক্ষা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব ডিভাইস থেকে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত জামায়াত আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস তদন্তের জন্য চাওয়া হলেও সেগুলো এখনো পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস পুলিশ পরীক্ষা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব ডিভাইস থেকে হ্যাকিংয়ের কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। অথচ তদন্তের জন্য জামায়াত আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ডিভাইস চাওয়া হলেও সেগুলো দেওয়া হচ্ছে না। আমাকে এ মামলায় বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।’
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছরওয়ারে আলমকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ঢাকার আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্তে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
এর আগে আদালতে দেওয়া বক্তব্যেও ছরওয়ারে আলম জানিয়েছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় নিজের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ তদন্তের জন্য দিয়েছেন। হ্যাকিংয়ের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-দক্ষিণ ইউনিট। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে কোন কোন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল, তা শনাক্ত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, এ কারণে জামায়াত আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি আদালতের মাধ্যমেও এসব ডিভাইস চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ডিভাইস তদন্তের জন্য পাওয়া যায়নি।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাজিফুল ইসলাম বাবু বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়েও বাদীপক্ষের কাছে ডিভাইস চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক্স কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং এক্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া প্রযুক্তিগত তথ্য একসঙ্গে যাচাই করা গেলে অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
মামলার বাদী মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিভাইস হস্তান্তরের বিষয়ে ডিবির সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া এবং ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি পরিষ্কার হলে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো দিতে তারা প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ডিভাইস তদন্তের জন্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়গুলো পরিষ্কার হলে তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ডিভাইস দেওয়ার বিষয়ে তাদের আপত্তি নেই।
উল্লেখ্য গত ৩১ জানুয়ারি ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশের পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল।
ঘটনার পর প্রথমে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করা হয়। মামলায় মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্তে ছরওয়ারে আলমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তিনি শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। অন্যদিকে তদন্তকারীরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট ডিভাইস ও প্রযুক্তিগত তথ্য হাতে পাওয়া এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের পরই হ্যাকিংয়ের ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
ফলে মামলাটিতে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে- হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশে কোন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেই ডিভাইসগুলোর প্রযুক্তিগত তথ্য কী বলছে। তদন্তে প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও তথ্য পাওয়া গেলে এ প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
