ফায়ারিং স্কোয়াডে নিদাল হাসানের মৃ/ত্যুদ/ণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৩২
ছবি: সংগৃহীত
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য জনসমক্ষে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দাবি, গুরুতর অপরাধের পরিণতি মানুষকে বোঝাতেই এ প্রক্রিয়া জনসমক্ষে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পাশাপাশি সেই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনাও করছে মার্কিন প্রশাসন। এমন উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় বেলা ১টায় নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি জনসমক্ষে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ‘হিউম্যান ইভেন্টস ডেইলি’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেগসেথকে এ পরিকল্পনার কথা বলতে দেখা যায়।
তিনি বলেন, মানুষ যেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি দেখতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। কারণ, এ ধরনের অপরাধের জন্য যে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়, তা মানুষের বোঝা প্রয়োজন। হাসানের মৃত্যুদণ্ড জনসমক্ষে কার্যকরের সিদ্ধান্তকে ‘খুবই সহজ সিদ্ধান্ত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে গত সোমবার পেন্টাগন জানায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর সচিবকে।
নিদাল মালিক হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার একজন মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গুলি চালান। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।
হামলার পর হাসান দাবি করেছিলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি এ হামলা চালিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে তাকে কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে বন্দি রাখা হয়েছে।
তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো কোনো সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ১৯৪৫ সালের পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরেরও এটি হবে প্রথম ঘটনা।
