ট্রাম্পের সংবাদ কভারেজ বন্ধ, পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্তে মার্কিন বিচার বিভাগ
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:২৯
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবাদ কভারেজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনায় পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। নেটওয়ার্কগুলো সম্মিলিতভাবে সংবাদ সম্প্রচার বন্ধ রেখে ফেডারেল প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজের কাছে হোয়াইট হাউসের টিভি পুল-সংক্রান্ত যোগাযোগের নথি চেয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের টিভি পুল এমন একটি ব্যবস্থা, যার আওতায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম পর্যায়ক্রমে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কর্মসূচি ও চলাচলের দৃশ্য ধারণ করে। পরে সংগৃহীত ছবি, ভিডিও ও তথ্য অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়, যাতে তারাও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশ করতে পারে।
গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার পর টিভি পুলের সম্প্রচার কার্যক্রম কয়েক দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কভারেজ বন্ধ রাখার বিষয়টি বিচার বিভাগের নজরে আসে।
মার্কিন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, বাণিজ্যিক প্রতিযোগীদের মধ্যে সম্মিলিত বয়কট দেশটির শেরম্যান অ্যাক্ট লঙ্ঘন করতে পারে। একচেটিয়া ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণ প্রতিরোধে প্রণীত এই আইনের আওতায় ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণ করাই বিচার বিভাগের অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগের তদন্তের উদ্দেশ্য।
গত মাসে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে ‘কাল্পনিক তথ্য বা মিথ্যা’ প্রকাশের অভিযোগ তুলে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেন। পরে আদালতের এক বিচারকের রায়ের পর সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়।
প্রবেশাধিকারে এই বিধিনিষেধকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছিল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী। এ নিয়ে তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলাও করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করতে নিষেধ করে। আদালতগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই বিধানের এমন ব্যাখ্যা দিয়ে আসছে যে, সংবাদ পরিবেশনের ধরন বা বিষয়বস্তুর কারণে সরকার কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারে না।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ এটিই প্রথম নয়। এর আগে দেশটির বিভিন্ন সংবাদপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করেও মামলা করা হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউস ঘোষণা দেয়, প্রেসিডেন্টের কর্মসূচিতে প্রবেশাধিকার পাওয়া সাংবাদিকদের প্রেস পুলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিচ্ছে তারা। এর আগে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এই ব্যবস্থা পরিচালনা করে আসছিল।
একই মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের ওভাল অফিস এবং এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো সীমিত প্রবেশাধিকারের স্থানগুলোতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। সংবাদ সংস্থাটি ‘গালফ অব আমেরিকা’র পরিবর্তে ‘গালফ অব মেক্সিকো’ নাম ব্যবহার করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এপি আদালতের দ্বারস্থ হয়। মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
সর্বশেষ টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে শুরু হওয়া তদন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার এবং গণমাধ্যমের মধ্যে প্রতিযোগিতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে তদন্তের ফলাফল কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
