শিরোনাম
ইউপি নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২৫ নভেম্বর স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে ছাত্রলীগ নেতার হুমকি, ‘পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন না’ সিলেটে পৃথক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৩ জনের মৃ/ত্যু: আ হ ত ১০ সিলেট সীমান্তে একসপ্তাহের ব্যবধানে ফের গুলিতে যুবকের মৃ/ত্যু ইনানীর রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু, ৬ জনের পরিচয় মিলেছে ‘ভোটব্যাংক নয়, স্বাধীন নাগরিক হিসেবে সিদ্ধান্ত নিন’: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে হৃদয় হরিজন হত্যা: নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার ৩ ভারতে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের কৌশল নিয়ে বিতর্ক ঘরে বসেই ই-পাসপোর্টের আবেদন, জেনে নিন নিয়ম ও খরচ

https://www.emjanews.com/

19709

sylhet

প্রকাশিত

১৭ অক্টোবর ২০২৬ ২০:১০

সিলেট

প্রথম বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ, মৌলভীবাজারে প্রবাসীর দ্বিতীয় বিয়ে পণ্ড

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ২০:১০

ছবি: সংগৃহিত

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী স্ত্রীকে বিয়ের পর সে দেশে নিয়ে গিয়ে গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের অনুমোদন পাওয়ার পর ডিভোর্সের আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সৈয়দ কাওছার আলীর (৪৫) বিরুদ্ধে। পরে দেশে ফিরে দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন করলে প্রথম স্ত্রী আমিনা বেগম যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে যায় তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন।

ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারে। দ্বিতীয় বিয়ের কনেপক্ষের অভিযোগ, আগের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন কাওছার আলী।

তবে বরপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের মাধ্যমে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি কনেপক্ষকে আগেই জানানো হয়েছিল।

অভিযুক্ত সৈয়দ কাওছার আলী মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ধাইসার গ্রামের সৈয়দ চেরাগ আলীর ছেলে।

প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ধাইসার গ্রামের কাওছার আলীর সঙ্গে সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বরমান গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে আমেরিকাপ্রবাসী আমিনা বেগমের (৫৫) বিয়ে হয়। বিয়ের পর আমিনা স্বামীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন পাওয়ার পর কাওছার তাঁর স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার আবেদন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমিনা বেগমের ছোট ভাই মো. আইয়ুব আলী বলেন, তাঁর বোনকে না জানিয়ে কাওছার হঠাৎ দেশে চলে আসেন। পরে দেশে এসে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন- এমন খবর পেয়ে আমিনা দ্রুত বাংলাদেশে ফিরে আসেন। শুক্রবার মৌলভীবাজারের নালিহুরী গ্রামে কাওছারের দ্বিতীয় বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে জানতে পেরে বৃহস্পতিবার তিনি মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, দ্বিতীয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের রুমেল কমিউনিটি সেন্টারে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য রান্নাবান্না ও অনুষ্ঠানস্থলে সাজসজ্জার কাজও শেষ করা হয়। তবে প্রথম বিয়ের বিষয়টি জানার পর কনেপক্ষ বিয়েতে অসম্মতি জানায়।

কনেপক্ষের অভিযোগ, আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে কাওছার আলী তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এতে তাঁদের প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং সামাজিকভাবে তাঁদের সম্মানহানি ঘটেছে।

কনের বাবা আব্দুল ওয়াহিদ আরও অভিযোগ করেন, গত ১৬ অক্টোবর বিকেলে কনের বাড়িতে গিয়ে কাওছার আলী ও তাঁর ভাই সৈয়দ সাহাদাত আলী বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, `কাওছার আলী আগে বিয়ে করেছিলেন, সে তথ্য আমাদের জানানো হয়নি। প্রথম স্ত্রী থানায় অভিযোগ করার পর আমরা পুরো ঘটনা জানতে পারি। এতে আমরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অপূরণীয় সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।'

তবে বরপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, আমিনা বেগমের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে কাওছারের বিয়ে হয়েছিল এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের মাধ্যমে তাঁদের আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। নতুন বিয়ের বিষয়ে কনেপক্ষের স্বজনদের আগেই বিস্তারিত জানানো হয়েছিল বলেও দাবি তাঁদের।

কাওছার আলীর বড় ভাই সৈয়দ সাহাদাত আলী বলেন, তাঁর ছোট ভাইয়ের আগের বিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে বিচ্ছেদের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এখন দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধ করতে আমিনা বেগম মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। বিচ্ছেদ-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র মৌলভীবাজার মডেল থানা-পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিপু কুমার দাস বলেন, আমিনা বেগমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিয়েটি বাংলাদেশে নিবন্ধিত হলেও বরপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে বিচ্ছেদ-সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।