‘ভোটব্যাংক নয়, স্বাধীন নাগরিক হিসেবে সিদ্ধান্ত নিন’: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৪
ছবি সংগৃহিত
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কোনো রাজনৈতিক দলের ভোটব্যাংক না হয়ে নিজেদের নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকা জরুরি। ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়, বরং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী মাঠে শারদীয় দুর্গোৎসবের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই, আপনারা আপনাদের বিবেকের কাছেই দায়ী থাকবেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা, সরকারি বরাদ্দ ও ছুটির সুযোগের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নাগরিকদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেওয়া উচিত। এসব অধিকার ও সুযোগ যে সময়ে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত থাকবে, সেই সময়ের সরকারের প্রতি মানুষের সমর্থনও বেশি থাকবে বলে আশা করা যায়।
অতীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করে অনেকে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা বিচার করার দায়িত্ব সবার নিজের। কোন সময়ে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে, তা জনগণকেই বিবেচনা করতে হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দবন্ধের পরিবর্তে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’ বলা অধিক যুক্তিযুক্ত। কারণ, বাংলাদেশের সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন এবং ধর্মের ভিত্তিতে কারও প্রতি বৈষম্য করা যাবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব মানুষ সমান অধিকারের অধিকারী নাগরিক। কাউকে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সংবিধান প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীকে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন, উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার দিয়েছে। এসব অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব।
দুর্গাপূজার আয়োজন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ সরকারি বরাদ্দ এবং সর্বোচ্চ ছুটি রয়েছে। দুর্গোৎসবের আনন্দ যাতে নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও উৎসব প্রত্যেক মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস ও চর্চার প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি এবং বনানী ও গুলশান এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
