ইশরাক হোসেনের পিস্তল উঁচিয়ে ধরার দৃশ্য নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের সমালোচনা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২২:০৭
ছবি: সংগৃহীত
মাদকবিরোধী অভিযানের সময় রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে ধরার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আর ইসলামী আন্দোলন বলেছে ইশরাক হোসেনের মহড়া সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করেছে।
রোববার এক বিবৃতিতে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন।
বিবৃতিতে জুবায়ের বলেন, বিদ্যমান অস্ত্র আইন অনুযায়ী, নিজের নিরাপত্তা ছাড়া কোনো ব্যক্তি বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জনমনে এ ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং তাঁর দেহরক্ষীদের আগ্রাসী ভূমিকা অনভিপ্রেত ও আইনবিরোধী।
সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সক্রিয় হওয়া জরুরি।
ইশরাক হোসেন নিজের কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করে জনমনে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা করেছেন অভিযোগ করে জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শপথ ভঙ্গ করেছেন। তাঁর এমন কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং জনগণ তা ভালোভাবে নেবে না।
এ ঘটনায় সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে প্রতিকার চেয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় করে মাদকসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং জনবান্ধব পদ্ধতিতে অপরাধ দমনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পিস্তল হাতে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন যে মহড়া দিয়েছে, তা আমাদেরকে হতাশ করেছে। তিনি মূলত এই হীন কাজের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকেই প্রমোট করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’
সরকার মাদকবিরোধী অভিযানের ঘোষণা দিলেও দলের নেতা-কর্মীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পারছে না উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, যেখানেই মাদক কারবারি ধরা হয়, তাদের সিংহভাগই তাদের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা সামান্য মুচলেকা দিয়ে আবার স্বরূপে ফিরে আসে। সরকার এবং প্রশাসন যেন জাতির সামনে নাটক উপস্থাপন করছে। এসব তামাশা ছেড়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
