ছবি: সংগৃহীত
১০ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েও প্রকাশিত ফলে পাস! চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতির এমন অভিযোগে এক শিক্ষার্থীসহ বোর্ডের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। উত্তরপত্রে পাওয়া নম্বর পরিবর্তন করে ফলাফলে বেশি নম্বর দেখানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সময় এ অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে।
বৃহস্পতিবার নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন।
মামলার আসামিরা হলেন শিক্ষার্থী হাসিবুল আলী শোভন এবং শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের তিন কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, রাশেদুল ইসলাম ও নূর হোসেন রায়হান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীর প্রকাশিত ফলাফলে ১১টি পত্রের সৃজনশীল অংশের নম্বর বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। বাংলা প্রথম পত্রের উত্তরপত্রে ২৩ নম্বর পেলেও ফলাফলে দেখানো হয়েছে ৩৩। দ্বিতীয় পত্রে ২৪ নম্বরের পরিবর্তে দেখানো হয়েছে ৬২।
একইভাবে ইংরেজি প্রথম পত্রে ৩৩ নম্বরের জায়গায় ৮৩ এবং দ্বিতীয় পত্রে ২০ নম্বরের পরিবর্তে ৮২ নম্বর দেখানো হয়। গণিতে ৯ নম্বর পেলেও ফলাফলে দেখানো হয়েছে ৬৬। ইসলাম শিক্ষায় ৭-এর পরিবর্তে ৬৪ নম্বর দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া উচ্চতর গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে উত্তরপত্রে শূন্য পেলেও ফলাফলে যথাক্রমে ৪৬ ও ৪৫ নম্বর দেখানো হয়। জীববিজ্ঞানে ১ নম্বরের পরিবর্তে ৪৬ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৪ নম্বরের পরিবর্তে ৬৫ নম্বর দেখানো হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীটি মূল পরীক্ষায় ১০ বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও নম্বর পরিবর্তন করে প্রকাশিত ফলাফলে তাকে পাস করানো হয়। খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সময় নম্বর পরিবর্তনের বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের তিন কর্মচারীকে দায়ী করা হয়েছে।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, শিক্ষা বোর্ডের তিন কর্মচারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ছেলের ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথের নাম আলোচনায় আসে। ওই বছর নগরীর একটি বেসরকারি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তাঁর ছেলে নক্ষত্র দেবনাথের জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন।
পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফল বাতিল করে শিক্ষা বোর্ড। একই ঘটনায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা হলে অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথকে গ্রেপ্তার করা হয়।
