https://www.emjanews.com/

20192

international

প্রকাশিত

০১ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৫

আন্তর্জাতিক

কুয়েতে ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশি প্রবাসীর

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতের মুতলা এলাকায় এক ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যার অভিযোগে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এক বাংলাদেশি প্রবাসী। ভোরে শার্ক পুলিশ স্টেশনে গিয়ে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করার পর তাকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কুয়েতে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির মুতলা এলাকায় এক ইয়েমেনি নাগরিকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এক বাংলাদেশি প্রবাসী।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত বাংলাদেশি যুবক নিজেই শার্ক পুলিশ স্টেশনে উপস্থিত হন। ভোরের দিকে থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারদের কাছে তিনি এক ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

তার স্বীকারোক্তির পরপরই নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে হেফাজতে নেন।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যার অভিযোগ
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক বাংলাদেশি প্রবাসী জানান, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইয়েমেনি নাগরিকের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালান এবং তাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে ঠিক কী বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, ঘটনার সময় সেখানে আর কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না কিংবা হত্যাকাণ্ডটি কীভাবে সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

মুতলা এলাকা থেকে উদ্ধার গলাকাটা মরদেহ
এদিকে কুয়েতের মুতলা এলাকা থেকে ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া ওই ইয়েমেনি নাগরিকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও তদন্তকারী দল।

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। মরদেহের সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।

পাবলিক প্রসিকিউশনে হস্তান্তর
পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক বাংলাদেশি নাগরিককে পরবর্তী আইনগত ও বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাবলিক প্রসিকিউশনে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এখন তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ
কুয়েতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিপুলসংখ্যক বসবাস। জীবিকার তাগিদে দেশটিতে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে এমন হত্যাকাণ্ডের খবর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সামান্য বিরোধ বা তাৎক্ষণিক উত্তেজনা থেকে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এ ঘটনাটি আবারও তা সামনে এনেছে।

তবে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্যের বাইরে হত্যাকাণ্ডের অন্যান্য বিষয় এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তদন্ত শেষে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।