যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সিনেটর হচ্ছেন ক্রিস পাপাস
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৭:৩১
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাস। নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সাবেক সিনেটর জন ই. সানুনুকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন ৪৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিক।
পাপাসের এই জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নির্বাচনী প্রচারে নিজের যৌন পরিচয়কে বিশেষভাবে সামনে আনেননি তিনি। বরং সাধারণ ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবাকে সাশ্রয়ী করা এবং ওয়াশিংটনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধিতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে পাপাসের বিজয় বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। একই সঙ্গে সমকামী অধিকার নিয়ে কাজ করা অধিকারকর্মীদের একাংশের মধ্যে জনসমর্থন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের কয়েকটি অনুষ্ঠানে পাপাসের জীবনসঙ্গী উপস্থিত থাকলেও প্রচারের মূল বক্তব্যে নিজের পরিচয়ের পরিবর্তে ডেমোক্র্যাটদের সাধারণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোই তুলে ধরেছেন তিনি। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্নীতির বিরোধিতা ছিল তার প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয়।
গত অক্টোবরে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপাস বলেন, ‘আমার মনে হয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ যা-ই হোক না কেন, মানুষ আসলে চায় তাদের প্রতিবেশীরা যেন নিজেদের মতো করে বাঁচতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রকাশ্যে সমকামী হিসেবে পরিচিত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এর আগেও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক গড়েছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য বার্নি ফ্র্যাঙ্ক ১৯৮৭ সালে প্রতিনিধি পরিষদে ছয় বছর দায়িত্ব পালনের পর নিজের সমকামী পরিচয় প্রকাশ্যে আনেন।
এরপর ২০১২ সালে উইসকনসিনের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্যামি বাল্ডউইন প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী ব্যক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হন। এবার ক্রিস পাপাসের বিজয়ের মধ্য দিয়ে সিনেটে নতুন একটি ইতিহাস যুক্ত হতে যাচ্ছে। তিনি হবেন দেশটির প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সিনেটর।
রাজনীতিতে পরিচিতি পাওয়ার আগে পাপাসকে সবচেয়ে বেশি চেনা হতো নিউ হ্যাম্পশায়ারের ম্যানচেস্টারে অবস্থিত তার পরিবারের রেস্তোরাঁ ‘পুরিটান ব্যাকরুম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে। কথিত আছে, তার দাদা এই রেস্তোরাঁতেই জনপ্রিয় খাবার চিকেন টেন্ডার উদ্ভাবন করেছিলেন।
মাত্র ২২ বছর বয়সে নিউ হ্যাম্পশায়ারের অঙ্গরাজ্য আইনসভার প্রতিনিধি নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন পাপাস। এরপর দীর্ঘদিন অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
