সিলেটে মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ননীছড়া দখল-দূষণমুক্ত করার দাবি
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ২০:৪৫
ছবি: সংগৃহীত
খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান থেকে প্রবাহিত ননীছড়াকে দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশে মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর-পূর্ব সীমানা ঘেঁষে প্রবাহিত ছড়াটির বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে দখল ও দূষণের চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ননীছড়া পরিদর্শন করে। এ সময় তাঁদের স্বাগত জানান মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এমেরিটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর রহমান চৌধুরী এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, আশপাশের বসতবাড়ি থেকে ছড়ায় নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি ছড়ার জায়গা সংকুচিত করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে। এতে ছড়াটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ছড়াটি দূষণমুক্ত রাখতে সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশে এর বেশ কিছু অংশে লোহার জালি দেওয়া হয়েছে। ছড়ার পাড়ে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় গাছ। তবে আশপাশের কিছু মানুষের দখল ও দূষণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এসব উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত সুফল বয়ে আনছে না।
পরিদর্শন শেষে ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বলেন, সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের এই প্রাকৃতিক ছড়ার পানি নিম্নাঞ্চলের হাওর-বিলের পানিও দূষিত করছে। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা বাস্তুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠবে।
পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, দখলের কারণে একসময় সিলেট নগরের অনেক ছড়া সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। পরে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেসব দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নীরবতার সুযোগ নিয়ে যারা ছড়া দখল করছেন, ভবিষ্যতে তাঁদের দখলও উচ্ছেদ করা হতে পারে।
মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংবেদনশীল। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন ননীছড়াকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখাই নয়, সিলেটের বিভিন্ন ছড়া, খাল ও নদী রক্ষায়ও পরিবেশকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বিশ্ববিদ্যালয়।
পরিদর্শন দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মুহিতুল বারী রহমান, স্কুল অব ল-এর ডিন অধ্যাপক শেখ আশরাফুর রহমান এবং স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন ড. মোস্তাক আহমেদ দীন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার নওশাদ মোস্তফা, খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, পরিবেশকর্মী রেজাউল কিবরিয়া লিমন, সোহাগ তাজুল আমিন, নাহিদ পারভেজ বাবু, প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আসিফ আজহার ও লিটন চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
