https://www.emjanews.com/

7026

sylhet

প্রকাশিত

০৮ জুলাই ২০২৫ ১৩:৩৮

আপডেট

০৮ জুলাই ২০২৫ ১৬:৪৪

সিলেট

মালিক শ্রমিকদের কর্মবিরতি: দুর্ভোগ পথে পথে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫ ১৩:৩৮

ছবি: সংগ্রহ

পথে পথে শুধু অপেক্ষা, ক্ষোভ আর হতাশা। বৃষ্টিভেজা বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ঘাম ঝরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা জানেন না কখন বাড়ি ফিরতে পারবেন, কখন পৌঁছাবেন গন্তব্যে।

মঙ্গলবার ভোর থেকে পরিবহণ মালিক শ্রমিকদের ডাকা কর্মবিরতির প্রথম দিনেই সিলেটজুড়ে গণপরিবহনশূন্য সড়ক চিত্র দেখা গেছে। দূরপাল্লার বাস থেকে শুরু করে লোকাল মিনিবাস, সবই হঠাৎ থমকে যায়। সড়কে যানবাহনের অভাবে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

কদমতলী ও কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই সেখানে যাত্রীদের ভিড়। কিন্তু কাউন্টার বন্ধ, কোনো বাস না থাকায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

‘ভেবেছিলাম সকালে উঠে রওনা দেব, এখন দুপুর গড়িয়ে গেলেও কোনো বাসের দেখা নেই,’ সকাল ৮টার দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন এক চাকরিজীবী।

গণপরিবহন না থাকায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে সিএনজি অটোরিকশা কিংবা মাইক্রোবাস রিজার্ভ করছেন, তবে সেগুলোর সংখ্যাও অপ্রতুল। যেসব সিএনজি চলাচল করছে, তারা হাঁকাচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। অনেকে কোনো বিকল্প না পেয়ে হেঁটেই রওনা হয়েছেন কর্মস্থল কিংবা জরুরি প্রয়োজনে।

শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে সকাল থেকেই পিকেটিং করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে কেউ যানবাহন চালাতে চাইলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পিকেটারদের ভাষ্য, তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছয় দফা দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়ে আসছে। লাইসেন্স জটিলতা, মামলা-হয়রানি, চাঁদাবাজি বন্ধ, রেজিস্ট্রেশন সহজীকরণসহ শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো বারবার তুলে ধরেছি, কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেনি। তাই বাধ্য হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মবিরতি পালন করছি। সরকার যদি আলোচনায় না বসে, এই কর্মসূচি চলতেই থাকবে।’

সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুব মিয়া বলেন বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ প্রশাসন ও সিলেটের রাজনৈতক নেতৃবৃন্দের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন। বাকি দাবিগুলোর বিষয়ে বিকেল ৩টায় বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত হবে। কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।