https://www.emjanews.com/

7031

sylhet

প্রকাশিত

০৮ জুলাই ২০২৫ ১৫:৪৯

আপডেট

০৮ জুলাই ২০২৫ ১৯:৩৯

সিলেট

প্রশাসনের বৈঠক

কর্মবিরতি প্রত্যাহার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫ ১৫:৪৯

বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বৈঠকের ছবি

প্রত্যাহার হয়েছে সিলেট জেলায় পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের ডাকা কর্মবিরতি। প্রায় চার ঘন্টা বৈঠকের পর প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান পরিবহণ নেতারা। এর আগে সকালে শুরু হওয়া পণ্য পরিবহণ কর্মবিরতিতে সিলেট জেলায় সাধারণ যানবাহন চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করে পরিবহণ শ্রমিকরা। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

বৃষ্টির দিন হওয়ায় জনভোগান্তি দ্বিগুণ হয়। সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার মানুষ গন্তব্যে পৌছাতে পারেনি সময়মতো।

সিলেটের পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়াসহ ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা।

অবশেষে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সভায় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সিলেট জেলার পরিবহন মালিক শ্রমিক ও পাথর কোয়ারী  সংশ্লিষ্ট  বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর জামায়াতের আমীর মোঃ ফখরুল ইসলামসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

সন্ধা সাড়ে ছয়টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানান বৈঠকে থাকা নেতারা।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী জানান, আন্দোলনকারীদের দাবি দাওয়া বিস্তারিত শোনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা দপ্তর ও যথাযথ মন্ত্রণালয়ে তাদের দাবি পৌঁছানো হবে। তবে কোনোরকম জনভোগান্তি তৈরি করা থেকে আন্দোলনকারীদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এসময়,  পরিবহন মালিক শ্রমিক ও পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন দাবি দাওয়ার প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সিলেটে পাথর উত্তোলন নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌছানো হবে।

এছাড়াও তিনি বলেন, গাড়ির ইকোনমিক লাইফ টাইম সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের আওতায় সিলেট বিভাগের নাম না থাকায়, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারন নেই।

এছাড়া ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন  পুলিশি হয়রানি,  গণপরিবহনের অতিরিক্ত বর্ধিত ট্যাক্স প্রত্যাহার সহ পণ্য পরিবহনের সকল সমস্যা সমাধানে ও কাজ করা হবে বলে আশ্বাস দেন বিভাগীয় কমিশনার। 

প্রসঙ্গত, পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া ও সিলেটের জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবিসহ ৬ দফা দাবিতে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন। এই কর্ম বিরতির ফলে রাস্তায় কোন ইঞ্জিন চালিত গণপরিবহন ছিল না। তাই কার্যত সড়ক যোগসযোগ অচল হয়ে পড়ে।

ভোগান্তির চিত্র: সকাল থেকে পথে পথে ছিল শুধু অপেক্ষা, ক্ষোভ আর হতাশা। বৃষ্টিভেজা বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ঘাম ঝরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা গন্তব্যে পৌছাতে পারেননি।

মঙ্গলবার ভোর থেকে পরিবহণ মালিক শ্রমিকদের ডাকা কর্মবিরতির প্রথম দিনেই সিলেটজুড়ে গণপরিবহনশূন্য সড়ক চিত্র দেখা গেছে। দূরপাল্লার বাস থেকে শুরু করে লোকাল মিনিবাস, সবই হঠাৎ থমকে যায়। সড়কে যানবাহনের অভাবে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

কদমতলী ও কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই সেখানে যাত্রীদের ভিড়। কিন্তু কাউন্টার বন্ধ, কোনো বাস না থাকায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

‘ভেবেছিলাম সকালে উঠে রওনা দেব, এখন দুপুর গড়িয়ে গেলেও কোনো বাসের দেখা নেই,’ সকাল ৮টার দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন এক চাকরিজীবী।

গণপরিবহণ না থাকায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে সিএনজি অটোরিকশা কিংবা মাইক্রোবাস রিজার্ভ করছেন, তবে সেগুলোর সংখ্যাও অপ্রতুল। যেসব সিএনজি চলাচল করছে, তারা হাঁকাচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। অনেকে কোনো বিকল্প না পেয়ে হেঁটেই রওনা হয়েছেন কর্মস্থল কিংবা জরুরি প্রয়োজনে।

শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে সকাল থেকেই পিকেটিং করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে কেউ যানবাহন চালাতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি কেউ।

তবে দুপুরের পর স্থগিত হয় এই ধর্মঘট।