https://www.emjanews.com/

7053

sylhet

প্রকাশিত

০৮ জুলাই ২০২৫ ২২:৫৭

আপডেট

০৮ জুলাই ২০২৫ ২৩:০৬

সিলেট

কর্মবিরতি করে কী পেলেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা

‘পাথর নিয়ে রিভিউ হবে, পরিবহন দেখবেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান’

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫ ২২:৫৭

কর্মবিরতির ভোগান্তির পর অনুষ্ঠিত হয় বৈঠক। ছবি : ইমজা নিউজ

সিলেটে পাথর উত্তোলন নিয়ে অনড় অবস্থানেই রয়েছেন প্রশাসন। তবে স্টোন ক্রাশার মেশিনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান স্তিমিত হতে পারে।

পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়াসহ ৬ দফা দাবি নিয়ে পরিবহন ধর্মঘটের পর সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবী আশ্বাস দিয়েছেন, পাথর উত্তোলন করার দাবি, এর কারণ ও যুক্তিগুলো বিশেষজ্ঞ দিয়ে রিভিউ করার। এছাড়া পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যেন হয়রানি না করা হয় এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলবেন।

মঙ্গলবার সন্ধায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের সভাকক্ষে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে তিনি এমন আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, আইনের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য আইন। বাস্তব অবস্থা বিবেচনার জন্য তিনি বর্তমান বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে সিলেটে আসতে বলবেন।

সিলেটে পাথর উত্তোলন নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌছানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার।

বিআরটিএ কৃর্তক পরিবহন মালিক-শ্রমিক হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গাড়ির ইকোনমিক লাইফ টাইম সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের আওতায় সিলেট বিভাগের নাম না থাকায়, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

এছাড়া ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পুলিশি হয়রানি, গণপরিবহনের অতিরিক্ত বর্ধিত ট্যাক্স প্রত্যাহার সহ পণ্য পরিবহনের সকল সমস্যা সমাধানে বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে সিলেটে আসার আহ্বান জানানো হবে। 

প্রসঙ্গত, পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া ও সিলেটের জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবিসহ ৬ দফা দাবিতে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন। এই কর্মবিরতির ফলে সকাল থেকে কোনো যানবাহন ছিল না। 

সকাল থেকে পথে পথে ছিল শুধু অপেক্ষা, ক্ষোভ আর হতাশা। সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে সকাল থেকেই পিকেটিং করেন পরিবহন শ্রমিকরা। কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে কেউ যানবাহন চালাতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি কেউ।

দুপুরের পর স্থগিত হয় এই ধর্মঘট। বিকেলে পরিবহন নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন বিভাগীয় কমিশনার। প্রায় চার ঘন্টা বৈঠকের পর সন্ধায় প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান পরিবহন নেতারা।

সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ৬ দফা দাবি হলো : সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ ধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বাস-মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান ২৫ বছর, সিএনজি ও ইমা লেগুনা এর ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল করা, সিলেটের সকল পাথর কোয়ারীর ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালু মহাল এবং পাথর কোয়ারী খুলে দেওয়া, বিআরটিএ কর্তৃক সকল গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল ও গণ পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের উপর আরোপিত বার্ধিত টেক্স প্রত্যাহার করা, সিলেটের সকল ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করন বন্ধ, বিদ্যুৎ মিটার ফেরত ও ভাংচুরকৃত মিলের ক্ষতিপূরণ এবং গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর ও বালুর ক্ষতি পূরণ দেওয়া, সিলেটের পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে অবিলম্বে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা ও সড়কে বালু ও পাথরবাহী গাড়িসহ সকল ধরনের পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের হয়রানী বন্ধ করা।

তবে বৈঠকে বাকি দাবি দাওয়া নিয়ে তেমন কথা হয়নি।