https://www.emjanews.com/

7061

sports

প্রকাশিত

০৯ জুলাই ২০২৫ ০২:৪৯

আপডেট

০৯ জুলাই ২০২৫ ০২:৫৩

খেলাধুলা

ওয়ানডে সিরিজ

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় হার

শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৯ রানে হেরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫ ০২:৪৯

ছবি: সংগ্রহ

ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৯ রানে হেরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারল বাংলাদেশ। পাল্লেকেলের ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে ২৮৫ রান তাড়া করতে নেমে টাইগাররা গুটিয়ে যায় মাত্র ১৮৬ রানে, ৩৯.৪ ওভারে। পুরো ম্যাচজুড়েই বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ছিল ছন্দহীনতা, উদাসীনতা ও কার্যকরী পরিকল্পনার অভাব।

সফল রানচেজের জন্য যেমন প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য টপ অর্ডার, সাহসী মিডল অর্ডার ও দৃঢ় সংকল্প, তেমনি দরকার হয় শুরুতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। কিন্তু বাংলাদেশের এই ম্যাচে ছিল না কোনোটাই।

শ্রীলঙ্কার হয়ে কুশল মেন্ডিস একাই যেন পার্থক্য গড়ে দিলেন। তাঁর ১২৪ রানের ঝকঝকে ইনিংসের ধারেকাছেও যেতে পারেননি কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। মেন্ডিসের পর সর্বোচ্চ ৫৮ রান আসে অধিনায়ক আসালাঙ্কার ব্যাট থেকে। এই দুই ইনিংসই দলকে এনে দেয় সম্মানজনক সংগ্রহ -২৮৫ রান।
তবে এই উইকেটে ২৮৫ আদৌ বড় স্কোর ছিল না। পাল্লেকেলে বরাবরই হাই-স্কোরিং ভেন্যু। তাই সাফল্যের জন্য চাই ছিল উদ্দীপনাময় ব্যাটিং, ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব, যার একটিও দেখা যায়নি বাংলাদেশের ইনিংসে।
বল হাতে শুরুটা ভালোই করেছিলেন তানজিম হাসান সাকিব, তানভীর ইসলাম ও মেহেদী মিরাজ। কিন্তু প্রথম কয়েকটি উইকেট পড়ার পরও বোলাররা চালাতে পারেননি চাপ। মেন্ডিসকে ঠেকানোর মতো কার্যকর পরিকল্পনা ছিল না বোলিংয়ে।
অন্যদিকে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বেশি রান যাঁর, সেই তাওহিদ হৃদয় করেছেন ৭৮ বলে ৫১ রান, যেটি এমন ম্যাচে একরকম নিষ্ফলা ইনিংস। ব্যাটিং অর্ডারে ছিল না কোনো বড় জুটি। উইকেট একের পর এক পড়েছে, জাকের আলীর বোল্ড হয়ে যাওয়া ইনিংসটিই যেন ছিল দলের প্রতীকী চিত্র।
একজন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট কর্মকর্তা পর্যন্ত বললেন, ‘বাংলাদেশ তো কোনো লড়াইই করল না। এ রকম ম্যাচ দেখে আনন্দ নেই।’
আগামীকাল একই ভেন্যুতে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। কিন্তু যেভাবে বাংলাদেশ এই ম্যাচে হেরেছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে, দল মানসিকভাবে কতটা প্রস্তুত?
টি-টোয়েন্টি আরও চ্যালেঞ্জিং ফরম্যাট, যেখানে প্রতিটি বলেই সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে। সেই লড়াইয়ে নামার আগে এই ম্যাচ যেন টাইগারদের জন্য অ্যালার্ম বেল। পরিকল্পনার ঘাটতি, ধারাবাহিকতা ও ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল না দিতে পারলে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশ দলের জন্য এখন সময় আত্মসমালোচনার, ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে এগিয়ে যাওয়ার। প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের মধ্যেই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আত্মবিশ্বাসহীনতা’। সেই দেয়াল ভেঙে আবার মাঠে ফিরতেই হবে, তবে কেবল জার্সি পরে নয়, মনপ্রাণ উজাড় করে খেলে।