https://www.emjanews.com/

7067

sylhet

প্রকাশিত

০৯ জুলাই ২০২৫ ১৪:০৫

আপডেট

০৯ জুলাই ২০২৫ ১৪:২৫

সিলেট

বিয়ানীবাজার

নিখোঁজের সাড়ে তিন মাস পর উদ্ধার তামান্না

‘আমি পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছি, পরিবারের কাছে ফিরতে চাই না।’

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫ ১৪:০৫

ছবি: সংগ্রহ

সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে নিখোঁজ হওয়ার সাড়ে তিন মাস পর হাবিবা জান্নাত তামান্না (২১) নামের এক তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ পাওয়ার ১৩ দিনের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায়  মঙ্গলবার (৮ জুলাই) গভীর রাতে দাসগ্রামের একটি ভবন থেকে তামান্নাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর আকাখাজানা গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের চতুর্থ কন্যা তামান্না। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি একই গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী আব্দুল বাছিতের বড় মেয়ে তাছলিমা জান্নাতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুবাদে গত ২২ ফেব্রুয়ারি তাছলিমার বাড়িতে যান এবং কিছুদিন অবস্থান করার পর ১৪ মার্চ থেকে নিখোঁজ হন।

নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ঐ পরিবারের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রাও একাধিকবার তাদের সন্ধান করে  ব্যর্থ হন। অবশেষে গত ২৬ জুন তামান্নার বড় বোন রাহেলা আক্তার বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান চিহ্নিত করে এসআই আল আমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধার করে।

উদ্ধারের পর হাবিবা জান্নাত তামান্না বলেন, ‘আমি পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছি। আমি নিজের মতো করে থাকতে চাই, পরিবারের কাছে ফিরতে চাই না।’
তামান্নার বান্ধবী তাছলিমা জান্নাত বলেন, ‘পারিবারিক নির্যাতনের কারণেই হাবিবা বাড়ি ছেড়েছে। সে আমাদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছে বলে আমরা কাউকে জানাইনি। এখন সে আমাদের সঙ্গেই থাকবে, পরিবারে ফিরবে না।’

এদিকে, তামান্নার বড় বোন রাহেলা আক্তার বলেন, ‘আমাদের আর কোনো অভিযোগ নেই। বোন বেঁচে আছে, ভালো আছে-এটাই শান্তির বিষয়। মূলত তার খোঁজ পেতেই আমরা থানায় অভিযোগ করেছিলাম। তার উপর নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়। যেহেতু সে প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজ ইচ্ছায় পরিবারের কাছে ফিরতে চায় না, আমরা চাই সে যেখানে ভালো থাকে সেখানেই থাকুক।’

বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছবেদ আলী জানান, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ তরুণীর সন্ধানে পুলিশ কাজ করেছে। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। যেহেতু তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং পারিবারিক কলহের কারণে নিজ ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছেন, তাই তাঁর সম্মতি অনুযায়ী তাঁকে বান্ধবী তাছলিমা জান্নাত ও তাঁর মা মোছা. ছাদিয়া বেগমের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’