সিলেট শিক্ষা বোর্ড (ফাইল ছবি)
দুই মাসেরও কম সময়ে প্রস্তুত হওয়া ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টায় প্রকাশিত হচ্ছে। অনলাইন, এসএমএস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানা যাবে। তবে এবার ফলাফলে জাঁকজমক আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না; বরং ফল প্রকাশ হবে অনাড়ম্বরভাবে। ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা ১৫০ টাকা ফি দিয়ে পুনর্মূল্যায়নের (রিভিউ) আবেদন করতে পারবে।
শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উত্তরের ভিত্তিতে এবার খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। ‘সহানুভূতির নম্বর’ প্রথা থেকে সরে এসে বাস্তব ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের পথে হেঁটেছে বোর্ডগুলো। এতে করে ‘এ প্লাস’ পাওয়ার সংখ্যা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এক দশকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়লেও তা শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারেনি। অনেক সময় দেখা গেছে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ চরম মানসিক চাপে আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছে।
শিক্ষা বোর্ডের একাধিক পরীক্ষক জানান, অতীতে পরীক্ষার খাতায় ২৮ বা ৩০ নম্বর পেলে অলিখিত নির্দেশে অনেক সময় তা বাড়িয়ে ৩৩ করে পাস করানো হতো। এমনকি প্রশ্নের সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক উত্তর লিখলেও পরীক্ষার্থী নম্বর পেত। তবে এবার সে প্রবণতায় বিরতি টানা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষার্থীর প্রকৃত লেখার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়া হচ্ছে।
গ্রেডিং পদ্ধতির শুরুর বছরে (২০০১) মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও ২০২২ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জনে। সংখ্যাগত এই ‘সাফল্য’ শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দীর্ঘদিন ধরেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ফল প্রকাশ শুধু ‘সংখ্যা’ নয়, মান এবং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ হতে পারে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে, ফরম পূরণ করেও ৬ হাজার ৩৮৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ অনুপস্থিত ছিল বিয়ের কারণে, যাদের ৯৭ শতাংশই ছাত্রী। ২৫ শতাংশ অনুপস্থিতির পেছনে কারণ অসুস্থতা, ১২ শতাংশ প্রস্তুতির অভাব, বাকিদের কেউ গর্ভধারণ, মৃত্যু, বিদেশে চলে যাওয়া কিংবা কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে।
এবার গতানুগতিক ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের পরিবর্তে মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছাড়াই বোর্ডগুলো নিজ নিজ ফল প্রকাশ করবে। সংবাদ সম্মেলন বা ছবি তোলার কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে দুপুর ২টায়। আর ফল জানা যাবে অনলাইন ও এসএমএস—উভয় মাধ্যমেই। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে নিজের ফল দেখতে পারবে। মোবাইল থেকে ফল জানতে মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে—SSC [বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর] [রোল নম্বর] 2025 এবং পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে (যেমন : SSC SYL 123456 2025)।
