আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ: ১৫০ দিন কর্মস্থলে বিনা নোটিশে অনুপস্থিত ছিলেন মেজর সাদেকুল
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৫ ১০:৫৬
ঢাকায় শেখ হাসিনাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগে ১৫০ দিন কর্মস্থলে বিনা নোটিশে অনুপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা সাদেকুল হক সাদেক এবং তার স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের এএসপি সুমাইয়া জাফরিন।
সম্প্রতি গোপন একটি রাজনৈতিক চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগে মেজর সাদেককে রাজধানীর উত্তরা থেকে আটক করে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্তে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘গত ১৭ জুলাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেনাবাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ওই কর্মকর্তাকে আটক করে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তদন্ত শেষে সেনা আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এছাড়াও ১৫০ দিন ছুটি না নিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি পৃথক তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ের মধ্যে মেজর সাদেক ও তার স্ত্রী এএসপি সুমাইয়া জাফরিন আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের গোপন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভারতের কলকাতায় অবস্থানরত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তাঁরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গোপন প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন।
ঢাকার ভাটারা থানা এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে গত ৮ জুলাই আয়োজিত এক প্রশিক্ষণে প্রায় ৪০০ জন ক্যাডার অংশ নেয়। সেখানে সশস্ত্র ও ভার্চুয়াল লড়াইয়ের কৌশল শেখানো হয়। গোয়েন্দা তথ্যমতে, এসব প্রশিক্ষণ সরাসরি সমন্বয় করেন মেজর সাদেক, এবং তাকে সহায়তা করেন তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে মেজর সাদেক দম্পতির নাম।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। কারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত, তা বের করতে সবদিক থেকেই অনুসন্ধান চলছে। শিগগিরই প্রকৃত তথ্য প্রকাশ্যে আসবে।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এই নাশকতা পরিকল্পনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও। পুরো ষড়যন্ত্রের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তাকে সহায়তা করেছেন পুলিশের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তারা।
এদিকে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে-এমন উচ্চপদস্থ দুই সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে ছুটি না নিয়ে ১৫০ দিন নিরুদ্দেশ থাকতে পারলেন? কার মদদে এই নাশকতা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিভাগ উভয়েই এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে।
