মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক: ৫ সমঝোতা স্মারক সই
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ ১১:১১
ছবি: সংগৃহীত।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে ড. ইউনূসকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর একান্ত বৈঠকে বসেন দুই নেতা। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার তিনটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত।’ এ সময় তিনি মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং বলেন, এখানে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘রোহিঙ্গা আমাদের জন্য বড় সংকট। এই সংকট সমাধানে আসিয়ানের সহযোগিতা চাই।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার একজন মহান বন্ধু। ড. ইউনূস দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এখন দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষায় সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।’
তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা এবং আটকে পড়া শ্রমিকদের সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। পেট্রোনাস ও আজিয়াটার সঙ্গে জ্বালানি ও টেলিযোগাযোগ খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি হালাল, STEM, গবেষণা ও সেমিকন্ডাক্টর খাতেও সম্পর্ক জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং শরণার্থী ও দুর্যোগ-পীড়িতদের মানবিক সহায়তা প্রদান জরুরি। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়া আসিয়ানের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ড. ইউনূস সোমবার কুয়ালালামপুর পৌঁছান। সফরকালে তিনি ব্যবসায়ী সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং আজ বিকেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। আগামীকাল বুধবার তিনি মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউকেএম) থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি গ্রহণ করবেন। সফর শেষে একই দিন দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
