https://www.emjanews.com/

12821

surplus

প্রকাশিত

০৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:৪৯

অন্যান্য

মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে বৃত্তির সংখ্যা ও অর্থ দ্বিগুণের প্রস্তাব

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:৪৯

ছবি: সংগৃহীত

দেশের মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত ‘মেধা’ ও ‘সাধারণ’ বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বৃত্তির অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর একটি বড় পরিকল্পনা নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। জুনিয়র শিক্ষাবৃত্তি বাড়ানোর উদ্যোগের পর এবার এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের সব ধরনের বৃত্তির হার ২০ শতাংশ বাড়ানো এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক ও এককালীন অর্থের পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি সমন্বিত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বর্তমানে বিদ্যমান ৪১ হাজার বৃত্তির সঙ্গে নতুন করে আরও ৮ হাজার ১৯২ জন শিক্ষার্থী যুক্ত হবে। ফলে এই তিন স্তরে মোট বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৯ হাজার ১৫১ জনে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি. এম. আব্দুল হান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, জুনিয়র শিক্ষাবৃত্তির হার ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানো হলে এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের বৃত্তি না বাড়ালে একটি অসামঞ্জস্য তৈরি হবে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অর্থ বিভাগের অনুমোদন পাওয়া গেলে চলতি অর্থবছর থেকেই প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

মাউশি জানায়, বর্তমানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নির্ধারিত হারে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে গত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা উপকরণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বর্তমান বৃত্তির অর্থ শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় দীর্ঘ নয় বছর পর বৃত্তির সংখ্যা ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসএসসি বৃত্তি

বর্তমানে এসএসসি পর্যায়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজার ৫০০ জন। প্রস্তাব অনুযায়ী এ সংখ্যা ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৬০০ করা হবে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি থাকবে ৩ হাজার ৬০০টি এবং সাধারণ বৃত্তি ২৭ হাজারটি।

ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ বৃত্তির মাসিক হার ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে দুই বছরে সরকারের ব্যয় ২৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৬১ কোটি ৮৮ লাখ টাকায়।

এইচএসসি বৃত্তি

এইচএসসি পর্যায়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৬০০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ৮২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

সাধারণ বৃত্তির মাসিক হার ৩৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এ খাতে পাঁচ বছরে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

স্নাতক (সম্মান ও পাস) বৃত্তি

স্নাতক সম্মান পর্যায়ে বৃত্তির সংখ্যা ৪ হাজার ৬৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫৮০ এবং স্নাতক পাস কোর্সে ৩০৯ থেকে বাড়িয়ে ৩৭১ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্নাতক সম্মানে ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ১ হাজার ১২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ২৫০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

সাধারণ বৃত্তির মাসিক হার ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা এবং এককালীন অনুদান ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

মাউশি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি স্তরের শিক্ষায় সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই সমন্বিত প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।