প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তন: ‘মূল্যায়ন পদ্ধতি’ চালুর পরিকল্পনা
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:২৫
ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি নিরূপণে ধারাবাহিক মূল্যায়নের পাশাপাশি ‘সামষ্টিক মূল্যায়ন’ বা লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা চালু করার প্রস্তাব রয়েছে, যা চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) খসড়া মূল্যায়ন পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করেছে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার একটি বিশেষ পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, নতুন পদ্ধতি চলতি বছর থেকে কার্যকর হবে কি না।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠ্যক্রম ভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়নের পাশাপাশি বাধ্যতামূলক মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৩৩ শতাংশ।
প্রতিটি প্রান্তিকে শিক্ষার্থীর মোট ৮৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি থাকতে হবে। অসুস্থতা বা অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে নতুন প্রশ্নপত্রে বিকল্প পরীক্ষা গ্রহণ করবে। ফলাফল প্রকাশ করা হবে ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ এবং ‘ঘ’ গ্রেডের মাধ্যমে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, ‘শিক্ষার্থীদের শিখন নিশ্চিত করতে সমন্বিত মূল্যায়ন নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে আমরা তা বাস্তবায়ন করব।’
নতুন পদ্ধতিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০ নম্বর, সামষ্টিক মূল্যায়ন ৫০ নম্বরের হবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ নম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, ‘নতুন পদ্ধতি চালুর আগে সব দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
মূল্যায়ন পদ্ধতিতে নতুন প্রণয়ন অনুযায়ী, প্রতি শিক্ষাবর্ষে তিনটি প্রান্তিকে শ্রেণি কার্যক্রম, পাঠ্যপুস্তকের কাজ, ক্লাস টেস্ট ও সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর পারফরম্যান্স যাচাই করা হবে।
