জাতীয় গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে উদ্বেগ সম্পাদক পরিষদের
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:৩০
ছবি: সংগৃহীত
প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের খসড়া তড়িঘড়ি প্রকাশ করাকে অনভিপ্রেত ও অযৌক্তিক বলে মনে করছে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের এই সংগঠন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন-সংক্রান্ত যে দুটি খসড়া অধ্যাদেশ সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর প্রণয়ন প্রক্রিয়া ও সময় নির্বাচন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্বাচন যখন একেবারে সন্নিকটে, তখন এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবসম্পন্ন খসড়া অধ্যাদেশ তড়িঘড়ি প্রকাশ করাকে সম্পাদক পরিষদ অনভিপ্রেত ও অযৌক্তিক মনে করে।
সম্পাদক পরিষদ উল্লেখ করে, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে হঠাৎ করে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করে গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এবং মতামতের জন্য মাত্র তিন দিনের সময় নির্ধারণ করে। এর আগের দিন মঙ্গলবার সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ আলাদা দুটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নতুন সরকার গঠিত হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদও শেষ পর্যায়ে। এ প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে আলাদা দুটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ আরও জানায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার পেশাগত মান এবং সম্প্রচারব্যবস্থার ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এমন আইনের খসড়া যথাযথ আলোচনা ও পর্যালোচনা ছাড়া প্রণয়ন করা গ্রহণযোগ্য নয়। সম্পাদক পরিষদের মতে, খসড়া অধ্যাদেশগুলোর কাঠামো ও বিধানগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
এ ছাড়া সীমিত সময়ের মধ্যে মতামত আহ্বান করে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগকে অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।
সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন নির্বাচিত সংসদ গঠনের পর সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন-সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তৃত ও অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে প্রণয়ন করা উচিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নয়; বরং স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও দায়িত্বশীল প্রক্রিয়াই দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সর্বোত্তম।
