https://www.emjanews.com/

13704

sylhet

প্রকাশিত

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭:২৯

সিলেট

সিলেটের ভোট: মাইক-মিছিলের পর উত্তাপ এখন ফেসবুকে

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭:২৯

টানা ১৯ দিনের জমজমাট প্রচারণার পর সিলেটে এখন পিনপতন নীরবতা। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে প্রার্থীদের মাইক ও মিছিলের কোলাহল। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগেই বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের প্রকাশ্য প্রচারণা। তবে মাঠের মাইক থামলেও ভার্চুয়াল জগতের উত্তাপ কমেনি। বরং শেষ মুহূর্তের প্রচারণার ঝড় এখন আছড়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সিলেটের ১৯টিসহ সারাদেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে রায় দেবেন ভোটাররা। শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত থাকায় ভোট হচ্ছে বাকি ২৯৯ আসনে।

প্রচারণা শেষ হওয়ার পর সিলেটের ভোটের মাঠ এখন সরগরম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। বিশেষ করে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টিকটকে প্রার্থীদের পক্ষে চলছে শেষ মুহূর্তের সাইবার যুদ্ধ। তবে গত কয়েক দিনে সিলেটের ভার্চুয়াল জগতে বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। সাধারণ ভোটার, তরুণ প্রজন্ম এমনকি অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রোফাইল পিকচার ও স্টোরিতেও শোভা পাচ্ছে ধানের শীষের ফ্রেম ও গ্রাফিক্স।

সিলেট-১ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং সিলেট-৬ আসনে এমরান আহমদ চৌধুরীর পক্ষে অনলাইনে ব্যাপক প্রচারণা লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ নেটিজেনরাও এই ট্রেন্ডে শামিল হয়েছেন।

বিএনপি নেতারা একে ‘গণজোয়ারের ডিজিটাল প্রতিফলন’ বললেও প্রতিপক্ষ শিবিরের প্রার্থীরা একে ‘কৌশলী সাইবার প্রপাগান্ডা’ হিসেবে দেখছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ড তরুণ ভোটারদের (জেন-জি) মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সিলেট জেলার ৬টি আসনে এবার মোট ভোটার প্রায় ৩১ লাখ। এর মধ্যে নতুন ভোটারই প্রায় দেড় লাখ। এই বিপুল সংখ্যক তরুণ ভোটারকে কাছে টানতে ডিজিটাল প্রচারণাই এখন প্রার্থীদের প্রধান হাতিয়ার।

সিলেট-১ (সদর-নগর) আসনে বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ১০ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা)। যদিও আল-ইসলাহ’র সমর্থন মুক্তাদিরের পক্ষে যাওয়ায় ভোটের পাল্লা কিছুটা ধানের শীষের দিকেই ঝুঁকেছে বলে মনে করছে বিএনপি।

সিলেট-৩ আসনে বিএনপির এম এ মালিকের বিপরীতে শক্ত অবস্থানে আছেন জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজু (রিকশা) ও জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান (লাঙ্গল)। এখানে জামায়াত প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সিলেট-৫ ও ৬ আসনেও স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ভোটের সমীকরণ বেশ জটিল। বিশেষ করে সিলেট-৫ এ বিএনপির বিদ্রোহী মামুনুর রশীদ (ফুটবল) এবং জোটের উবায়দুল্লাহ ফারুক (খেজুর গাছ) এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, ভোটের দিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিলেটে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা বসানো হয়েছে। টহলে নেমেছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। আকাশপথে ড্রোন এবং মাটিতে ডগ স্কোয়াড দিয়ে চলবে নজরদারি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের সংসদীয় ১৯টি আসনে ২৮৮১টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের ছয়টি আসনে ১০১৬, সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে ৬৬৪, হবিগঞ্জের চারটি আসনে ৬৪৭ ও মৌলভীবাজারের চারটি আসনে ৫৫৪টি কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১১২৬টি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে সিলেটের ২১৭টি, সুনামগঞ্জের ৪৫১টি, হবিগঞ্জের ২৩৫ ও মৌলভীবাজারের ২২৩টি।

সার্বিক দিক বিবেচনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া সর্বোচ্চ প্রস্তুতি। সেনাবাহিনী, বিজিবি, বিশেষ মোবাইল টিমসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বডি-অর্ন ক্যামেরা থাকবে, যা সবসময় লাইভ মনিটরিং করা হবে। এছাড়া এসব কেন্দ্রের আশপাশেই বিশেষ মোবাইল টিম ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা থাকবে, যাতে এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে। এখন শুধু অপেক্ষা ১২ ফেব্রুয়ারির। ব্যালটেই নির্ধারিত হবে সিলেটের ১৯ আসনের ভাগ্য, কারা হাসবেন শেষ হাসি।