https://www.emjanews.com/

13711

sylhet

প্রকাশিত

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯:৩৭

সিলেট

সুনামগঞ্জ-৩: স্বতন্ত্রের চাপে দিশেহারা জোট প্রার্থী, জরিপে এগিয়ে বিএনপি

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯:৩৭

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত গুরুত্বপূর্ণ আসন সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর–শান্তিগঞ্জ) ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা চরমে পৌঁছেছে। বিএনপি, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিস ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। প্রতীক বরাদ্দের আগেই এলাকায় প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছিলো।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতিতে ১১ দলের জোটের প্রার্থী চাপে পড়েছেন। তবে স্থানীয় বিভিন্ন জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই আসনে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর এম আহমদ। ‘ভয়েস অব জগন্নাথপুর’-এর এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে ধানের শীষের প্রার্থী কয়ছর এম আহমদের নামই বেশি শোনা যাচ্ছে। অপরদিকে প্রবীণ ভোটাররা জানান, দীর্ঘদিন পর জগন্নাথপুরবাসী একজন শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন, যাকে তারা ছাড়তে চান না।

জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ–৩ আসনটি জেলার অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে শ্রমজীবী মানুষ, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি। দীর্ঘদিন ধরে বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভাঙা সড়ক, মাদক সমস্যা ও মশার উপদ্রব এই এলাকার প্রধান সংকট হিসেবে চিহ্নিত।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ কয়ছর এম আহমদ। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির তিনবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

রাজনৈতিক পরিচিতির পাশাপাশি নিজ দলের সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন কয়ছর এম আহমদ। তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। দোয়া মাহফিল, মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে এলাকার মানুষের সমস্যা শুনছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, এই আসনে বিএনপির ভোটব্যাংক ঐতিহ্যগতভাবেই শক্তিশালী। পাশাপাশি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু ভোটও ধানের শীষের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

কয়ছর এম আহমদ বলেন, ‘সুনামগঞ্জ–৩ আসনের মানুষ শান্তি ও নিরাপদ জীবন চায়। নির্বাচিত হলে রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার আলোকে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন এবং জনগণ সুযোগ দিলে সর্বোচ্চটা দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।’

এবার সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি: মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ (ধানের শীষ); বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: মোহাম্মদ শাহীনূর পাশা চৌধুরী (রিকশা); স্বতন্ত্র (বিএনপি মনোনয়নবঞ্চিত): মো. আনোয়ার হোসেন (তালা); স্বতন্ত্র: মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ (তুষার) (টেবিল ঘড়ি); আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি): সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল), এবং স্বতন্ত্র: হুসাইন আহমেদ (ফুটবল)।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ–৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭২৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৯২১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ এলাকায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত উঠান বৈঠক, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেললেও সামগ্রিক শক্তির বিচারে বিএনপির প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ এখনো এগিয়ে রয়েছেন। তবে চূড়ান্ত রায় দেবেন ভোটাররাই-১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের বাক্সে নির্ধারিত হবে সুনামগঞ্জ–৩ আসনের ভবিষ্যৎ প্রতিনিধি।