https://www.emjanews.com/

13818

sports

প্রকাশিত

১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯:৪৫

খেলাধুলা

শপথের অপেক্ষায় সংসদ, ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে শুরু জল্পনা

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন পর মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছে। সদ্য সমাপ্ত এই জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৭টি আসনের মধ্যে দলটি জয় পেয়েছে ২১২টি আসনে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামি-নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।

নিয়ম অনুযায়ী একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার গঠিত হবে।

এদিকে নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। ক্রীড়াপ্রেমী জাতি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের সুনাম রয়েছে। ক্রিকেটে পরিচিতির পাশাপাশি ফুটবলসহ অন্যান্য ডিসিপ্লিনেও ধীরে ধীরে অগ্রগতি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ক্রীড়াখাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পড়বে নতুন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ওপর।

বিএনপির ২১২ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে সরাসরি মাঠের খেলায় যুক্ত ছিলেন দুজন। এর মধ্যে চাঁদপুর-১ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় এহসানুল হক মিলন। অন্যজন সাবেক ফুটবলার ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তবে এই দুজনের নাম অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিলেও জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় সংসদ সদস্য হয়ে ক্রীড়া মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও দুটি নাম ঘুরে ফিরে আসছে-ইশরাক হোসেন ও আলী আসগর লবি। খুলনা-৫ আসন থেকে নির্বাচিত আলী আসগর লবি জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন।

২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময় ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন আলী আসগর লবি। তিনি ওই সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দুই বছর এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। এ ছাড়া তিনি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আবাহনী ক্লাবের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই সংশ্লিষ্টতা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে আলী আসগর লবিকে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও তাকে ঘিরেই আলোচনা বেশি।

এর আগে বিএনপি সরকার গঠনের দুই মেয়াদে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা ও ফজলুর রহমান পটল। মির্জা আব্বাস স্বল্প সময়ের জন্য (২০ মার্চ ১৯৯১ থেকে ১৯ মে ১৯৯১) দায়িত্ব পালন করেন। এরপর সাদেক হোসেন খোকা দায়িত্ব নেন এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত তা বহাল রাখেন। ২০০১-০৬ মেয়াদে পুরো সময়জুড়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন ফজলুর রহমান পটল।

সবাই ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে। এবার পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে কে আসছেন, সেটিই এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন।