ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহব্যাপী বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চূড়ান্ত আক্রমণের নির্দেশ দেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য এই অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান এবং গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হচ্ছে। এসব সামরিক সরঞ্জাম আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা-উভয় ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের বিকল্প পথ খোলা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো সময় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট।’
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের সামরিক পরিকল্পনা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও বিস্তৃত। এর আগে গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের যে হামলা হয়েছিল, তা ছিল নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক। তবে নতুন পরিকল্পনায় ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের কারণে এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড। তারা জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এসব দেশের মধ্যে জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও তুরস্কের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি উত্তর ক্যারোলাইনায় মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্ষেত্রবিশেষে ‘ভয়’ দেখানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা গোটা অঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
