https://www.emjanews.com/

14037

surplus

প্রকাশিত

২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:৩৪

অন্যান্য

নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কর্মশালা

নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে নিয়ে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষণা উপস্থাপন

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:৩৪

ছবি: শাকিলা ববি।

নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে পরামর্শ কর্মশালা করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকাস্থ হোটেল নির্ভানা ইনের হলরুমে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পরামর্শ সভায় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের করা বাংলাদেশে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব এবং নেতৃত্বদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিল বাধা ও সম্ভাবনাগুলো বিষয়ের উপর একটি গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এই গবেষণায় পাওয়া যায় নারীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তুলনামূলকভাবে বেশি সাফল্যের হার প্রদর্শন করেছেন। তবে সাধারণ আসনে নারীদের স্বল্প অংশগ্রহণই এখনো প্রধান সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর কবিতা চৌধুরীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মশালা পরিচালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ফেলো অব প্র্যাকটিস মাহিন সুলতান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির এসোসিয়েট প্রফেসর মারুফা আক্তার, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ভিজিটিং রির্সাচার ইফফাত জাহান অন্তরা ও শাহিদা খন্দকার।

নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সুযোগ ও বাধা সম্পর্কে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন মতামত জানতে সিলেট বিভাগে পরামর্শ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মশালায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী, উপজেলা, ইউনিয়ন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভায় প্রতিনিধিত্ব করা নারী জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন এনজিও, সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব এবং নেতৃত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে নারী বিষয়ক রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো সনাক্ত করতে আলোচনা করা হয়। নারীদের জন্য কী ধরনের সহায়তা ব্যবস্থা আছে, তা কতখানি ব্যবহার করা গেছে, অভিযোগ করার পদ্ধতিগুলো কী, সেগুলি কার্যকর ছিল কিনা সেসব ব্যাপারেও আলোচনা হয়।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষণায় উঠে আসে সংরক্ষিত আসন ও সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা নারীদের সংখ্যাও। এতে দেখা যায়, সাধারণ আসনে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নারীদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সংখ্যা বেশি ছিল নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। নবম (২০০৯-১৩) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ আসনে জয়ী নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা ছিল ২১ জন। দশম (২০১৪-১৯) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ আসনে জয়ী নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা ছিল ১৯ জন। একাদশ (২০১৯-২৩) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ আসনে জয়ী নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা ছিল ২২ জন। দ্বাদশ (২০২৩-২৪) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ আসনে জয়ী নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা ছিল ২০ জন। ত্রয়োদশ (২০২৬) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ আসনে জয়ী নারী সংসদ সদস্য আছেন ৭ জন।

এছাড়াও গবষেণায় দলীয়-স্তরে লিঙ্গ বৈষম্যের কথা উঠে আসে। যার রেফারেন্স হিসেবে ২০২৪ সালে নির্বাচনে দেখা যায়, ২৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে মাত্র ১৬টি রাজনৈতিক দল নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে (মোট ৮৩ জন প্রার্থী)। পাশাপাশি ৪৫ জন নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। যা দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান কাঠামোগত ও পুরুষতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতার স্থায়িত্বকে প্রতিফলিত করে। এবং রাজনৈতিক দলসমূহ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২–এর বিধান অনুসরণে ব্যর্থ হচ্ছে। যেখানে দলীয় কমিটি ও নেতৃত্বের পদে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ফেলো অব প্র্যাকটিস মাহিন সুলতান বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিআইজিডির একটি গবেষণা চলমান আছে। ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে আমরা গবেষণা শুরু করেছি যা ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত আমাদের গবেষণা চলবে। এই পরামর্শ কর্মশালাটিও এই গবেষণার অংশ। আমাদের এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলো- নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, সম্ভাবনা এবং রাজনীতিতে নারীর প্রতি সহিংসতা সংক্রান্ত প্রমাণভিত্তিক তথ্য শক্তিশালী করা। বাংলাদেশের নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব এগিয়ে নিতে এবং রাজনীতিতে নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবেলা সহায়ক আইনগত ও নীতিগত কাঠামো সম্পর্কে জ্ঞান সৃষ্টি করা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর প্রতি সহিংসতা পর্যবেক্ষণ, প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া জোরদার করার জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপ চিহ্নিত করা এবং সুপারিশ প্রদান করা।