শিরোনাম
ঈদের ছুটিতে প্রাণোচ্ছ্বল সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো, উপচে পড়া ভিড় মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে যোগ দিতে ক্যামেরুন যাচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে অনন্য সিলেট: সিসিক প্রশাসক হবিগঞ্জে চা বাগানে ঘুরতে আসা তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধ/র্ষ/ণ, আ/ট/ক ১ বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার পরিকল্পনা এখনও ‘পরিবর্তনশীল’-হোয়াইট হাউস প্রবাসীর ঈদে লুকিয়ে থাকে না বলা হাজার কান্না সিলেটে সড়ক দু র্ঘ ট না য় ২৪ ঘন্টায় ৬ জনের প্রাণহানী পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত সিলেট: ১৫০ কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা সিলেটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত: শাহী ঈদগাহে মুসল্লিদের ঢল

https://www.emjanews.com/

14494

international

প্রকাশিত

২৪ মার্চ ২০২৬ ২০:৫৪

আন্তর্জাতিক

আইন বনাম মানবিকতা: মালয়েশিয়ায় ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান নিয়ে তীব্র বিতর্ক

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬ ২০:৫৪

ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে মালয়েশিয়ায় বিদেশিদের ওপর পরিচালিত ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা কতটা সংবেদনশীলতা? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল।

সাবেক আইনমন্ত্রী জায়েদ ইব্রাহিমের মতে, উৎসবমুখর পরিবেশে কঠোর আইন প্রয়োগ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনাহীনতার পরিচায়ক। তিনি বলেন, ‘অনেক বিদেশি কেবল বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে হারি রায়া উদযাপন করতে চান। এ সময় তাদের ওপর অভিযান চালানো অমানবিক মনে হতে পারে।’

‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে বাস টার্মিনাল, শপিং মল এবং অন্যান্য জনবহুল এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এর লক্ষ্য বিদেশিদের কাগজপত্র যাচাই করে তাদের অবস্থানের বৈধতা নিশ্চিত করা। তবে একযোগে শত শত মানুষের ওপর এমন যাচাই-বাছাই পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে যখন পুরো দেশ উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

জায়েদ ইব্রাহিম আরও উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতির জন্য কেবল ব্যক্তিরা দায়ী নয়; বরং এটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ফল। তিনি কর্তৃপক্ষকে আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অন্তত উৎসবের সময়টুকু মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক রাখা উচিত।

সমালোচনার জবাবে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, এই অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়; বরং এটি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ।

ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলী বলেন, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। উৎসবের সময় হলেও এ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, বৈধ কাগজপত্র থাকা বিদেশিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অভিযান পরিচালিত হয় কেবল আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে।
তার ভাষায়, যেখানেই থাকুন, সেখানকার আইন মেনে চলতে হবে এই নীতি সবার জন্যই প্রযোজ্য।

উৎসবের সময় অভিযান চালানোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগে শিথিলতা দেখালে অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই সময় বা পরিস্থিতি নির্বিশেষে নিয়মিত অভিযান চালানো অপরিহার্য।

সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারুদ্দিন জানান, পেটালিং জেলার কয়েকটি ‘হটস্পট’ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে মোট ১৩৭ জনকে যাচাই করা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযান পরিচালিত হয় শাহ আলমের তামান শ্রী মুদা বাজার, দাতারান অটোমোবিল এবং টার্মিনাল ১৭-সহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে।

এই ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে অনেকেই মনে করছেন, দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন অভিযান প্রয়োজন। অন্যদিকে, অনেকে এটিকে উৎসবের সময় মানবিক সংবেদনশীলতার অভাব হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে, প্রশ্নটি এখনো রয়ে গেছে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য কোথায় টানা উচিত?

এই বিতর্কের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান ঘিরে জনমনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।