শিরোনাম
ভূমধ্যসাগরজুড়ে লাল ধুলিঝড়, সতর্কতা জারি বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা ফের সরকারের হাতে শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা: মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন মন্ত্রী-উপদেষ্টা চুয়াডাঙ্গার বাতাসে আগুন, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই দেশের স্বার্থে যেন জ্বালানী ব্যবহারে আমরা সাশ্রয়ী হই: বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের স্বার্থে যেন জ্বালানী ব্যবহারে আমরা সাশ্রয়ী হই: বাণিজ্যমন্ত্রী বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কষ্ট বুঝে বলেই তেলের দাম বাড়ায়নি:খন্দকার মুক্তাদির ১৪ বছরেও সন্ধান মেলেনি ছাত্রদল নেতা দিনারের উন্নয়নকাজে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ সিসিক প্রশাসকের আগামীকাল সিলেট আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির এমপি

https://www.emjanews.com/

14701

weather

প্রকাশিত

০৩ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৩

আবহাওয়া

চুয়াডাঙ্গার বাতাসে আগুন, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৩

ছবি: সংগৃহীত

বৈশাখ আসার আগেই চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে তীব্র দাবদাহ। টানা কয়েক দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ, আর শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রখর হয়েছে রোদের তাপ। এদিন বিকাল ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা ছিল দেশের সবচেয়ে উষ্ণ অঞ্চলগুলোর একটি।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুধু উচ্চ তাপমাত্রাই নয়, বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদে যেন আকাশ থেকে আগুন ঝরছে—এমন অনুভূতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের।

শহরের বড় বাজার এলাকায় ভ্যানচালক কাসেম মিয়া বলেন, ‘রাস্তায় বের হলে মনে হয় গায়ে আগুনের ছ্যাঁকা লাগছে। রোদের দিকে তাকানো যায় না। শরীর কাঁপছে, তবুও পেটের দায়ে বের হতে হচ্ছে।’

দাবদাহের প্রভাব পড়েছে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতেও। তীব্র রোদে মাঠের ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বেলা ১১টার পর থেকেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছেন, তারা ছাতা, টুপি কিংবা রুমালের ওপর নির্ভর করছেন। তবে ঘরের ভেতরেও নেই স্বস্তি- ফ্যানের গরম বাতাস আর ভ্যাপসা পরিবেশে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জাহিদুল হক জানান, এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। গত বুধবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শুক্রবার ৩৯ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে জেলায় মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ধরনের চরম গরমে হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বেশি করে পানি, খাবার স্যালাইন ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রা যেখানে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে ৩৬ ডিগ্রি ছাড়ালেই মৃদু, ৩৮ ডিগ্রি পেরুলে মাঝারি এবং ৪০ ডিগ্রি অতিক্রম করলে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় বর্তমানে তীব্র দাবদাহের কাছাকাছি পরিস্থিতি বিরাজ করছে।